- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে রোয়ামিং ম্যালওয়্যার!

আক্রান্ত ব্যবহারকারী এ ধরনের মেসেজ পেয়ে থাকেন। ছবি:সংগৃহীত

দৈনিকসিলেটডেস্ক: এশিয়ার কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ছে তথ্য পাচারকারী ম্যালওয়্যার রোয়ামিং ম্যানটিস। তবে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নাজুক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ক্যাস্পারস্কির সিকিউরলিস্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ম্যালওয়্যারটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া এই ম্যালওয়্যারটি হ্যাকারদের মোবাইল ব্যবহারকারীদের সম্পূর্ণ এক্সেস দিতে সক্ষম।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত ১৫০ জন ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্কে এই ম্যালওয়্যারের অস্তিত্ব পান নিরাপত্তা গবেষকেরা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যবহারকারীর অধিকাংশই দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ এবং জাপানের। তাদের মতে এর বাইরে আরও আক্রান্ত হতে পারেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরই সূত্র ধরে গবেষণা শুরু করেন গবেষকরা। গবেষণা করতে গিয়ে তারা দেখেন, এই সাইবার হুমকিটি সেই দেশ থেকে উৎপন্ন হচ্ছে না। তবে তারা কিছু সূত্র পান। যেখানে দেখা যায়, এই সাইবার হামলাকারীরা চীনা বা কোরিয়ান ভাষায় কথা বলে থাকেন।

গবেষকদের দাবি, এই ম্যালওয়্যারটি ডিএনএস হাইজ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। এ ছাড়া এই ম্যালওয়্যারটি মূলত রাউটারকে কেন্দ্র করে এই কাজটি করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত রাউটারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি মোবাইলে থাকা ব্রাউজারের মাধ্যমে যদি কোনো সাইটে প্রবেশ করেন তখন ওই ম্যালওয়্যারটি তাকে ম্যালিসিয়াস ওয়েবসাইটে প্রবেশ করিয়ে দেয়। তবে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই ম্যালওয়্যারটির ফাঁদে পা দেয় ওই স্মার্টফোন ব্যবহারকারী। অনেক সময় এটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে জানায় তার মোবাইলে থাকা গুগল ক্রোম ব্রাউজারটি আপডেট নয়। এতে ব্যহারকারী লিঙ্কে থাকা ম্যালওয়্যারযুক্ত ক্রোম ব্রাউজার ইনস্টল করে এবং হ্যাকারকে সব ধরনের এক্সেস দিয়ে দেয়।

এতে ওই মোবাইল ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার, অ্যাকাউন্টের তথ্য, এসএমএস বা এমএমএস এবং কল করা, কল রেকর্ডসহ মোবাইলের সম্পূর্ণ এক্সেস পেয়ে যায়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়ছে বেশি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫০ জন ব্যবহারকারীর মধ্যে বাংলাদেশে এই ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত ২৭-২৯ জন ব্যবহারকারীকে পেয়েছেন তারা। তবে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে এই ম্যালওয়্যার থেকে পরিত্রাণ পেতে তারা রাউটারের ডিফল্ট লগ ইন এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার আহ্বান জানান গবেষকরা। এ ছাড়া থার্ড পার্টি সোর্স থেকে রাউটারের ফার্মওয়্যার ইনস্টল করা থেকে বিরত থেকে অফিশিয়াল সোর্স থেকে রাউটারের ফার্মওয়্যার ইনস্টল করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে মোবাইলেও থার্ড পার্টি সোর্স থেকে পাওয়া কোনো অ্যাপ ইনস্টলের নির্দেশনা দেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন