বিয়ানীবাজারে ১৪ কোটি টাকার ২ প্রকল্প অকার্যকর

সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার অধীনে নির্মিত ১৪ কোটি টাকার ২টি প্রকল্প অকার্যকর সুফল পাচ্ছে না জনসাধারণ বিগত সরকারের আমলে পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় দুইটি প্রকল্প এখন পরিকল্পনার অভাবে নির্মিত ৩ বছর ধরে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে ময়লার স্তুপে। অপর দিকে নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বিতরনের লক্ষে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন ২০১৮ সালের জুন মাসে ফতেহপুর এলাকার লোলাখালের কাছে পানি শোধনাগার স্থাপনের করা হলে কার্যক্রম চালু হয়নি এখনো। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ২টি প্রকল্প গুলি অনুসন্ধানে জানা যায় যে প্রকল্প ২টির মধে বাস টার্মিনালটি সড়ক প্রসস্থ না হওয়াতে চালক’রা এই জায়গাটিতে আসতে নারাজ অভিযোগ রয়েছে। বিগত পৌর পরিষদের দায়িত্বশীলদের কথায় টার্মিনালটিতে বেশ কয়েকবার আসলেও গাড়ির ক্ষতি হওয়াতে এক বাক্যে টার্মিনালটিতে আসতে নারাজি বাস মালিক কতৃপক্ষ।

অপরদিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় একটি শোধনাগার। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যানটি বুঝিয়ে দিলেও প্রায় ৪৫ হাজার পৌরবাসীর কোনো কাজেই আসছে না এটি।

পৌরসভার নাগরিকদের দাবি, প্রতিটি বাড়িতে টিউবওয়েল রয়েছে। কোথাও পানির অভাব নেই। অযথা অতিরিক্ত খরচে আগ্রহী নয় পৌরবাসী। যে কারণে সংযোগ নিতে চাচ্ছেন না তারা।

সুশিল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদ মজির উদ্দিন আনছার বলেন, সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রকল্প জনগণের সেবায় যেভাবে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা যায় সেভাবে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। স্থানীয় বাসিন্দা আয়নুল আবেদিন বলেন,পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতা ছাড়া এসব প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে যার কারণে এর দায় সাবেক পরিষদের এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশ অতীতের সসংকটময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে আশা করছি সামনের দিন গুলোতে পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু হবে। আমাদের দাবি থাকবে সরকারের ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প যাতে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়।

সিলেট জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী আবু নাসের পিন্টু বলেন, বিয়ানীবাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা কম এছাড়াও পরিকল্পনার অভাবে একটা পরিত্যক্ত জায়গা যেটা পৌর শহরের শেষ মাথায় সেখানে মিনি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করার কারণকি তা সকলের কাছে স্পষ্ট। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এসব দূর্নীতির বিচার হবে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজি শামিম বলেন, বিয়ানীবাজার পৌরসভার অর্থায়নে যে মিনিবাস টার্মিনালটি নির্মাণ হয়েছিলো সেটি হয়তো বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। সাবেক পরিষদের দায়িত্বশীলদের কতটুকু চেষ্টা ছিল বাস মালিকদের টার্মিনালে ফেরাতে এটা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে যায়। এ ছাড়াও পানির প্রকল্পের বিষয়টি নিয়ে এখানে পানির চাহিদা কম এবং জনবল সংকট রয়েছে উভয় বিষয় নিয়ে আমরা দেখছি কি করা যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন