
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠে মাঠে আমনের সবুজের সমারোহে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। যেদিকেই দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। কোথাও নেই ফাঁকা।রোদ বৃষ্টির খেলায় সবুজের আভা ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। ঝির ঝিরে বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের পাতা। আর এ সবুজ ধানের পতায় দুলছে কৃষকদের আগামী দিনের সোনালী স্বপ্ন।
আর ক’দিন পরেই সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ।রাশি রাশি সোনালী ধানে ভরে উঠবে কৃষকদের শূন্য গোলা এবং মুখে ফুটে উঠবে হাসির ঝিলিক।আবহাওয়া অনুকূল,কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা ,যথা সময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সর্বমোট ১৩ হাজার ২ শত ৩০হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।যা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্র ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমন আবাদের জাতসমুহ ব্রিআর-২২,ব্রি-১১,ব্রি-৫২,ব্রি-৯০,ব্রি-১০৩ চাষ করা হয়েছে।
প্রণোদনাস্বরূপ বীজের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে সারও বিতরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে এ উপজেলার আমন ধানের মাঠে যেন সবুজের গালিচা বিছানো।ধানের প্রতিটি জমিতে শীষ উঁকি দিচ্ছে। জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সবুজে ঘেরা রোপা আমনের মাঠে বারবার তাকায় কৃষক। থমকে দাঁড়ায় পথিক। সবুজ মাঠের এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে।
কৃষক মাজেদুর রহমান বলেন,বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে মাঠে কাজ করেছি।পোকামাকড়ের আক্রমণ কম আছে।গত বছরের তুলনায় এবার আমন আবাদ ভালো হয়েছে। তবে আশাকরি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে আমনের বাম্পার ফলন পাবো।
কৃষক কবির মিয়া বলেন, আট কেদার জমিতে আমন আবাদ করেছেন। পোকামাকড় কম।তিনি আশাবাদী ভাল ফলনের।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন,আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করে আসছি।কৃষকরা আমাদের পরামর্শমত ধান চাষ করেছে।কোনরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই বাম্পার ফলন হবে এতে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবে।