মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো সাইমনের মুক্তির দাবিতে শাবিতে মানববন্ধন

জঙ্গি তকমা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায়প্রাপ্ত প্রকৌশলী সাইমনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৩ জুলাই) দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর মানববন্ধনকারীরা এক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাভবন ই এর সড়ক ঘুরে এসে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ করে।

ব্লগার হত্যা মামলায় ফাঁসানো মুজাম্মিল হুসাইন সাইমন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাউনিয়া থেকে সিটিটিসি তাকে অপহরণ করে বলে জানান সাইমনের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ হুসাইন। পরে তাকে ব্লগার হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় বলে জানান তিনি।

মানববন্ধনে সাইমনের ভাই আব্দুল্লাহ হুসাইন বলেন, ” আমার ভাই ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার কখনো আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, কখনো হিজবুত তাহরির, কখনো শিবিরের কর্মী বলে অভিযুক্ত করেন। অথচ আমার ভাই সবধরনের রাজনৈতিক সংগঠন থেকে দূরে ছিলেন।”

“কারাগারে আমার ভাই থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে গ্রিলে ঝুলিয়ে রাখা হয়, ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়, জয়েন্টে আঘাত করা হয় এবং ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। তবুও তিনি স্বীকারোক্তিতে সই করতে অস্বীকার করলে আমার বাবা ও ভাইকে গুমের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি সিটিটিসির লিখিত স্বীকারোক্তিতে সই করতে বাধ্য হন।”

তিনি আরো বলেন, “এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই ২০২১ সালে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। আমার ভাইয়ের এ নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সিএজিই প্রকাশ করেছে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক পলাশ বখতিয়ার বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি পুতুল সরকার। এ সরকার শুধু নিরপরাধে বিভিন্ন হামলা-মামলায় জড়িত রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। আমাদের সাইমন ভাই কোন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তি না হওয়ায় সরকার তার বিষয়ে নিরব।”

“সরকারকে বলতে চাই নিরপরাধে ফাঁসির রায়প্রাপ্ত সাইমন ভাইয়ের জন্য কেউ লড়াই না করলেও আমরা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা করব। অতিসত্বর সাইমনের মামলার পূণঃতদন্ত করে ভাইয়ের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।”

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, “সাইমন একজন উদ্ভাবনী ধারণার মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তৃতীয় বর্ষ থেকেই সে তার বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপ করতে সহযোগিতা করত। সাইমন ছিল একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। সে কখনো কোনো উগ্র রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আজ তাকে যেভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং স্বীকারোক্তি আদায়ে যেভাবে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি শোকাহত ও লজ্জিত। আমরা চাই, অবিলম্বে সাইমনের নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই অন্যায়ের বিচার হোক।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন