শাসক দেশের মালিক হলে পরিণতি কী হয়, মানুষ দেখেছে: জামায়াত আমির

শাসক দেশের মালিক হলে পরিণতি কী হয়, মানুষ তা দেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার বিকেলে নওগাঁ শহরের নওযোয়ান ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জামায়াতের রুকন (সদস্য) সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা শাখা এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তাদের দুয়ারে দুয়ারে যাব এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করার সুযোগ নেব। আল্লাহ যদি ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয় তাহলে মালিক হব না, এ দেশের সেবক হব। যারা অতীতে মালিক হয়েছেন, তাদের পরিণতি চোখের সামনে আমরা দখতে পেয়েছি। দূর অতীতেও দেখেছি, নিকট অতীতেও দেখেছি। এর থেকে সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কী হয়, ধোকা দিলে কী হয়, মালিক বনলে কী হয়, জুলুম করলে কী হয়, লুট করলে কী হয়, অপরাধ করলে কী হয়, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে অর্থ লুট করলে কী হয়—এর থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমরা আশা করব, আমরা সবাই শিক্ষা নেব। তাহলে আগামীতে আমাদের সন্তানেরা যেজন্য জীবন দিয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তাদের আশা পূরণ হবে। এই যাত্রায় আমরা আমাদের সাংবাদিক বন্ধুদের বিশেষ সহযোগিতা চাই। তারা যেন আমাদের সোজা-সাপটা কথাগুলো তুলে ধরে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা কথা স্পষ্ট করতে চাই। যারা একটা জাতিকে বিভিন্ন ধোয়া তুলে টুকরা টুকরা করে, তারা কোনো দিন জাতির মঙ্গল চায় না। এই বিভক্তি আর চলতে দেওয়া যায় না। দেশ ও জাতিকে সামানের দিকে এগিয়ে নিতে হবে, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে জামায়াতে ইসলামী। আমরা মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে চাই। আমরা দল ও ধর্মের ব্যবধান না করে মানুষকে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অপরাধের একটা স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল আওয়ামী লীগ। আমাদের কলিজার টুকরা নেতৃত্বকে বিচারের নামে প্রহসন করে তারা হত্যা করেছে। আমাদের শত শত কর্মীকে হত্যা করেছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করেছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশের সবগুলো জামায়াতের ইসলামীর কার্যালয় সিলগালা করেছে। আমাদের দলের নিববন্ধন অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দিশেহারা হয়ে এ বছরের পয়লা আগস্ট আমাদের দলকে তারা নিষিদ্ধ করেছে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবচাইতে মজলুম দল। এর চেয়ে মজলুম দল আর বাংলাদেশে নাই।’

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কারও একার নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এই কৃতিত্ব দেশের ১৮ কোটি মানুষের উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর আগে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে আমাদের সন্তানেরা বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছে। রাজপথে আমরা আমাদের সন্তানদের নামাজ আদায় করতে দেখেছি। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ছিল না। এই আন্দোলন মানুষের মুক্তির সংগ্রামের আন্দোলন ছিল। এই আন্দোলনের মূল কৃতিত্ব আল্লাহর। এই আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করেছে আমাদের সন্তানেরা। দেশের ১৮ কোটি মানুষ এই আন্দোলনের সাথে ছিল। নির্দিষ্ট কোনো দলের ভিত্তিতে এই আন্দোলনকে বিভক্ত করতে চাই না। এখন আমাদের অ্যাসিড টেস্ট শুরু করেছে। দেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে তরুণেরা যেই দেশপ্রেম বুকে নিয়ে শহীদ হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। আমরা যারা রাজনীতিবিদ রয়েছি, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’

নওগাঁ রুকন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলাম নওগাঁ জেলা শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য খ ম আব্দুল রাকিব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, রাজশাহী অঞ্চল সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন