কমিটি ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬ নেতা পদত্যাগ করেছেন। গত ১২ জুলাই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা এনসিপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর একে একে ৬ নেতা পদত্যাগ করেন।
গত ১২ জুলাই এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২১ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
উপজেলা সূত্র জানায়, কমিটি ঘোষণার এক দিন পরই ১৩ জুলাই উপজেলা কমিটির সদস্য ফাহিম আহমদ এবং পরদিন ১৪ জুলাই যুগ্ম সমন্বয়কারী নাদিম মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। গত রবিবার (২০ জুলাই) গোয়াইনঘাট উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী হাফিজ মো. আব্দুল হাফিজের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পরে উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী এনামুল হক মারুফ, সদস্য তরিকুল ইসলাম, কিবরিয়া আহমদ ও কামরুল হাসানও পদত্যাগ করেন। তারা সবাই পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক নেতা জানান, ‘যুগ্ম সমন্বয়কারী এনামুল হক মারুফ গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই। মূলত আওয়ামী লীগের ওই প্রভাবশালী নেতার ধমকেই এনামুল হক মারুফ পদত্যাগ করেছেন। সদস্য কামরুল, তরিকুল ও কিবরিয়া একসঙ্গে বিকাশের এজেন্ট কম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের মারুফই এনসিপির কমিটিতে এনেছিলেন এবং একসঙ্গে চারজনই পদত্যাগ করেছেন।’
তিনি আরো জানান, ‘নাদিম ও ফাহিম ব্যক্তিগত কারণ দেখালেও মূলত কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী হাফিজ মো. আব্দুল হাফিজ একাধিক নেতার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এনসিপি সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন সাহান বলেন, ‘এ পর্যন্ত সাতটি উপজেলা কমিটি গঠন হয়েছে। নানা কারণে ছয়জন পদত্যাগ করতেই পারেন। তবে বেশ কয়েকজন কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় অভিমান থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জেনেছি।
