- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

সিলেটে এনসিপি’র কমিটি নিয়ে অসন্তোষ: ক্ষোভ ঝাড়লেন সদস্য আব্দুর রহিম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোয়াইনঘাট ও বিশ্বনাথ উপজেলার সমন্বয় কমিটি গঠন ও সদ্যঘোষিত কমিটি থেকে একাধিক নেতার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, সিলেট জেলা এনসিপির সদস্য ও জুলাই যোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রহিম।

গত রোববার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজস্ব আইডি থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

আব্দুর রহিম অভিযোগ করেছেন, নবগঠিত কমিটিতে আন্দোলনের চেতনা ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সুবিধাবাদী ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা এনসিপির নতুন কমিটিতে এমন কিছু ব্যক্তিকে স্থান দেওয়া হয়েছে, যারা জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেননি। এদের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বা সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত এবং আন্দোলনের সময় তাঁদের ভূমিকা ছিল নীরব বা বিতর্কিত। এদিকে, যাঁরা আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন, রাস্তায় রক্ত ঝরিয়েছেন এবং আজও সেই চেতনাকে ধরে রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে কমিটির বাইরে রাখা হয়েছে।

তিনি এই প্রক্রিয়াকে ‘ফ্যাসিবাদী চিন্তার নতুন রূপ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি শুধু অবমূল্যায়ন নয়, বরং অবিচারকে নীতিতে পরিণত করার একটি অপচেষ্টা।

তিনি আরও জানান, কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য ব্যক্তি বা বলয় প্রতিষ্ঠা নয়, বরং আন্দোলনের লক্ষ্য ও সংগঠনের নীতি প্রতিষ্ঠা করা। যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে দমন-পীড়নের মুখে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা নৈতিক ও ন্যায্যতার দাবি।

আব্দুর রহিমের এই পোস্ট মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার সঙ্গে একমত পোষণ করে সংগঠনের ভেতরে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্ষমতার খেলা ও দলবাজি থেকে সংগঠনকে মুক্ত রাখতে হবে এবং আন্দোলনের মূলস্রোতের মানুষদের মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা এনসিপির কমিটির কোনো নেতার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।-প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন