কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে সহিংস পরিস্থিতি তৈরী,ভাংচোর ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ গত এক সপ্তাহের ঘটনায় সিলেট নগর ও জেলায় মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার সূত্র ধরে অভিযান চাললিয়ে এ পর্যন্ত পর্যন্ত জেলা ও মহানগরে পুলিশ ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ৫ জন, জালালাবাদ থানায় ২ জন, দক্ষিণ সুরমা থানায় ২ জন, শাহপরাণ থানার ২ জন, মোগলাবাজার থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের চলমান ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, সিলেট নগর এলাকায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি ইয়ারদৌস হাসান। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া রিভলবার এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে রয়েছে। অস্ত্রের সন্ধান পেতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও সিনিয়র এএসপি সম্রাট হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল সিলেট জেলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেট জেলায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিলেট বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় বিএনপি’র অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এখন গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে। এ কারণে বিএনপি’র অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাড়িছাড়া। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানিয়েছেন, প্রতি রাতে তল্লাশির নামে নেতাকর্মীদের পরিবারকে হেনস্তা করা হচ্ছে। সিনিয়র নেতাদের বাসায় তল্লাশি না হলেও ওয়ার্ড নেতা ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাদের বাসায় বাসায় অভিযান ও তল্লাশি হচ্ছে।