সিলেটে শুকনো জায়গার অভাবে, অনেকেই কোরবানী দিতে পারছেন না।
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেটে চলমান দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানি উঠে গেছে। কোরবানী দেবার মতো শুকনো কোন স্থান না থাকায় অনেকেই ঈদের দিন (সোমবার- ১৭ জুন) এবং আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত কোরবানী দিতে পারেননি।
নগরীর তপোবন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা আ ন ম কনা মিয়া জানান, তার এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত অনেকেই কোরবানী আদায় করতে পারেন।
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেটে চলমান দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে সিলেটের নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রবিবার (১৬ জুন) রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসন সিলেট জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী থাকার তথ্য দিলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে- আজ সকাল পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত। এর মধ্যে সিলেট মহানগরের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরের সব নিচু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা পর্যন্ত পানি। এছাড়া যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে ২৪ ঘন্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মি.মি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুইদিন সিলেটে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।