২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। একই ঘটনায় তার সতীর্থ নাহুয়েল মোলিনাকে দেওয়া হয়েছে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনাকে নিজেদের পরবর্তী দুটি ম্যাচে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে।
খেলার বাইরের কর্মকাণ্ডে ক্রীড়া আয়োজনকে ব্যবহার করা, দলের অসদাচরণ এবং সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গির অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৩ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানার ১ লাখ মার্কিন ডলার বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। আরও ১ লাখ মার্কিন ডলারের জরিমানা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক সময়সীমা কার্যকর থাকবে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন, যেখানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি জানানো হয়।
এরপর গত মাসে ফিফা একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তকারী নিয়োগ করে। বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার একাধিক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষের ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু হয়।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পারেদেস ও মোলিনাকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলার করে জরিমানাও করা হয়েছে।
স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেছিলেন পারেদেস। পরে স্পেনের গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন এবং এরপর তার মুখে আঘাত করতে দেখা যায় তাকে।
গাভি অবশ্য জানিয়েছেন, পারেদেসের শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন না। তারপরও ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে জড়ানোর কারণে গাভিকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। একই শাস্তি পেয়েছেন আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা।
আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে স্পেনের দানি ওলমোর মুখে আঘাত করার ঘটনায় তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
তবে এসব ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কেবল আন্তর্জাতিক ম্যাচেই কার্যকর হবে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবে। আপিলে সফল না হলে ক্রীড়া সালিশি আদালতে বিষয়টি নিয়ে যাবে তারা।