১৭ বছরের স্থবিরতায় রোগীদের দুর্ভোগ, বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার কেলেঙ্কারির তদন্ত

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ১২ বছর থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহের জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত: ১৫ বার সময় বর্ধিত করে একাই খাবার সরবরাহ করছেন সঞ্জিব কর নামের জনৈক ব্যক্তি। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে স্থিতাবস্থা জারীর আদেশ নিয়ে আসেন খাবার সরবরাহকারী এই ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কর্ণধার। আর এই সুযোগে কোন তদারকি না থাকায় রোগীদের মাঝে তিনি নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করছেন বলে একাদিক অভিযোগ পাওয়া যায় । তবে এবার টনক নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ এর বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ রোগীদের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সোমবার দুপুরে সিলেট থেকে আগত একটি তদন্ত দল হাসপাতালের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা, রান্নাঘরের পরিবেশ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

তদন্ত দলে নেতৃত্ব দেন ডা: মো: নাসির উদ্দিন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ডা: জন্মেজয় দত্তসহ আরও একজন প্রতিনিধি।

জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি এবং উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল-এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সুজন বিয়ানীবাজার শাখা সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনের সময় তদন্ত দল হাসপাতালের রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং খাবারের মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরবরাহকৃত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় রোগীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। রান্নাঘরের পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর।

২০১৩ সালে খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলে সংক্ষুব্দ হয়ে ওই প্রতিষ্টানের কর্ণধার সঞ্জিব কর একই বছরে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা (নং ১১৬৪৮) দায়ের করেন। এরপর থেকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনিই এখনো পর্যন্ত খাবার সরবরাহ করছেন।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টে চলমান মামলার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি খাবার সরবরাহকারী সঞ্জিব কর-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ১৭ বছর ধরে হাসপাতালে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এর সুযোগে বর্তমান ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদারকিবিহীনভাবে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।কে.বি সাইনের স্বত্তাধিকারী সঞ্জিব কর দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে খাবার ও মনোহারী দ্রব্য সরবরাহ এবং ধোলাই’র টেন্ডারে অংশ নেন এবং নিয়মিত তিনি টেন্ডার পানও বটে। শুধুমাত্র ২০১৩সালে এর কিছুটা ব্যাতিক্রম হওয়ায় তিনি বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রীট করায় আদালত তার পক্ষেই রায় দেন। এ প্রসঙ্গে সঞ্জিব করের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়েও কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মনিরুল হক খান জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন