২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু, মহাকাশ ও উন্নত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ ব্যক্তির নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে উদ্বেগ বাড়ছে। বিষয়টি হোয়াইট হাউস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো যাচাই করা হয়নি। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনা ঘটেছে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা কাজ করতেন নাসা জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জেপিএলের (জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি) দীর্ঘদিনের কর্মী মাইকেল ডেভিড হিকসের মৃত্যু। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৫৯ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরিস্থিতি ছিল অস্পষ্ট।
২০২৫ সালের জুনে মনিকা রেজা পাহাড়ে হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। ২০২৪ সালে মারা যান ফ্রাঙ্ক মাইওয়াল্ড। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের বাসায় খুন অবস্থায় পাওয়া যায় জ্যোতির্পদার্থবিদ কার্ল গ্রিলমেয়ারকে।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল উইলিয়াম নিল ম্যাকক্যাসল্যান্ডকে ঘিরে। ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কের বাসার কাছে শেষবার দেখা যায়। তিনি মোবাইল বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাড়াই বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাগুলো নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার বলেন, এসব ঘটনাই সন্দেহজনক। কংগ্রেসম্যান টিম বারচেট বলেন, এখানে কাকতালীয় কিছু নেই।
নিহত ও নিখোঁজদের অনেকেই এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা উন্নত প্রযুক্তি ও সংবেদনশীল প্রকল্পে কাজ করতেন। তাদের এমন পরিণতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পরিকল্পিত টার্গেটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এখনো পরিষ্কার কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কংগ্রেস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত চালাচ্ছে। স্পষ্ট উত্তর না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।