আদালতে রামিসার বাবা-মায়ের লোমহর্ষক বর্ণনা

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। এ সময় গা শীতল করা লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা পারভীন আক্তারও। জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকলে আদালতকক্ষের পরিবেশও ভারী হয়ে ওঠে।

পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, সেদিন সকালে তিনি রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বড় মেয়ে রাইসাকে ছোট মেয়ে রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে বলেন। দুই বোনের সে বাসায় যাওয়া নিয়ে কথোপকথন তিনি রান্না ঘরে বসে শুনতে পান। পরে ওদের শব্দ না পেয়ে ভাবেন, ওরা চলে গেছে। বড় মেয়ে ফিরে এলে রামিসার খোঁজ না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। তখন তিনি দরজা ধাক্বা দেন। বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিল না। এতে তার সন্দেহ হয়। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে তিনি স্বামীকে ফোন করেন।

আশপাশের লোকজন উঁকি দিয়ে কিছু দেখতে না পেলেও রাজু নামে এক যুবক ভিডিও করলে দেখা যায়, ভেতরে স্বপ্না খাতুন হাঁটাহাঁটি করছেন।

তিনি বলেন, দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর বাথরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্ত স্বপ্নাকে বাসার ভেতরে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলেও আদালতকে জানান তিনি।

আদালতে কাঠগড়ায় থাকা স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে। এছাড়া আসামি সোহেল রানাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সোহেল রানা খুন করেছে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়েছে বলে আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান তিনি।

এদিকে আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। আদালতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বনানী কাকলীতে অফিসে পৌঁছানোর পর স্ত্রী পারভীন আক্তারের ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, বাসায় এসে দেখেন ভবনের সামনে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। পরে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে স্ত্রী জানান, রামিসা পাশের ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা রয়েছে। আশপাশের লোকজন দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভেতর থেকে দরজার মূল লক খুলে দেন আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।

পরে সবাই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। স্বপ্না খাতুন তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষের স্টিলের খাট উঁচু করে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতে জানান তিনি।

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। আসামিদের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় বা শত্রুতা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। সাক্ষ্য শেষে পুলিশের সহায়তায় বিমর্ষ অবস্থায় আদালত ত্যাগ করেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন