আজমিরীগঞ্জে হামে আক্রান্ত দুই শিশু

আজমিরীগঞ্জে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স আনুমানিক ৬ মাস থেকে ৮মাসের মধ্যে বলে জানা গেছে।

সারাদেশ যখন হামে আক্রান্ত নিয়ে আতঙ্কে তার মধ্যে আজমিরীগঞ্জে নতুন করে প্রথমবারের মতো দুই শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

শিশু দুটি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের , অপরজন জলসূখা ইউনিয়নের নোয়াগড় গ্রামের।

আক্রান্ত শিশুদের পরিবার সাথে কথা হলে জানা যায়, শিশুরা কয়েকদিন ধরেই জ্বর, কাশি ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিবর্তন না হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা হামের উপসর্গ দেখিয়ে তাদের ভর্তি রাখেন।

২ দিন ধরে ডাক্তারদের নির্দেশনা নিয়ে হাসপাতালে আলাদা একটি কক্ষে রয়েছে শিশু দুটি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু দুটি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসলে তাদের ভর্তি রাখা হয়। ভর্তির পর থেকেই আইসোলেশনে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখায় হচ্ছে ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি খুব দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।” উনারা আরও বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা নিয়মিত টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই কর্মকর্তা জানান, শিশু দুটিকে ভর্তি পরেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত তাদের খবরাখবর রাখছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (আরএমও) ডাঃ রফিকুল ইসলাম জানান,হামে আক্রান্ত দুই শিশুই আগের চেয়ে সুস্থ রয়েছে । একটি শিশু সমস্যা একটু বেশি, চিকিৎসা চলছে আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, হামের আক্রান্ত শিশুদের জন্য ৪ বেড বিশিষ্ট একটি রুম জনবল থেকে নিরাপদ স্থানে নির্ধারিত রাখা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেওয়া হ’য়েচে।নিয়মিত তাদের দেখাশোনা করছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন