আজমিরীগঞ্জে হাওরে পাকা ধান, শ্রমিক সংকট, নেই হারভেস্টার মেশিন

হাওরাঞ্চলের বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটাকে ঘিরে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাব ও হারভেস্টার মেশিনের অনুপস্থিতিতে জমিতে পাকা ধান সময়মতো কাটতে পারছেন না সাধারণ কৃষকরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সিলেট বিভাগের ২৬ তারিখ থেকে টানা ৭ দিন নিয়মিত অতিবৃষ্টি , শিলাবৃষ্টি ও স্থানীয় নদীগুলোতে বাড়তে পারে পানি। নদীতে পানি বাড়লে হাওরে ফসলী জমিতে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। পাকা জমির ধান কাঠতে হতাশায় দিন পার করছে কৃষকেরা।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে অবশিষ্ট ধান দ্রুত ঘরে তোলার চাপ তৈরি হলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকট কারণে পাকা জমিগুলো রয়েছে ঝুঁকি মধ্যে।

সরকারি ভাবে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কম্ভাইন হারভেস্টার মেশিন ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এসব মেশিনের উপস্থিতি খুবই সীমিত। কোথাও হাতে গোনা কয়েকটি মেশিন দেখা গেলেও অনেকগুলোই অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বেশ কিছু মেশিন নিজ উপজেলা ছেড়ে অন্য উপজেলায় ধান কাটতে গেছে বলেও জানান সাধারণ কৃষকরা।

সম্প্রতি পৌরসভা, জলসুখা ও কাকাইলছেওর ঘরদাই এলাকায় আরও তিনটি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, সেগুলোরও কার্যকর উপস্থিতি নেই।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে পেকে থাকা ধান কাটার অপেক্ষায় কৃষকরা। একসঙ্গে ধান পাকার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

উপজেলা শিবপাশা ইউনিয়নের কৃষক জজ মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৩ একর জমির ধান ৮০ শতাংশের বেশি পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।

তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে মাইকিং করা হচ্ছে পাকা ধান কাটার জন্য । কিন্তু শ্রমিক নেই, আবার এলাকায় হারভেস্টারও দেখা যায় না। একটি মেশিন মালিকের সাথে কথা বলেছি তিনি ১১ হাজার টাকা প্রতি একরে দাবি করেন।

নূর মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, আজমিরীগঞ্জ হারভেস্টার আছে, কিন্তু মাঠে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পাকা জমি নিয়ে বিপাকে আছি শ্রমিক পাচ্ছি না। অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে হাটুর উপর পানি জমেছে।

আজমিরীগঞ্জ সদরের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকটের কারণে প্রতি একর জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ১৩ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া মাড়াইয়ের জন্য একরে ১৫০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ায় জমির ফসল রক্ষার্থে আমি শ্রমিক দিয়ে ধান কাটিয়েছি। মেশিন দিয়ে কাটলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায় খরচ হতো। এ বছর শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণেরেও বেশী। বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না। আবাদ খরচও বেড়েছে। এর মধ্যে ধানের দাম কম সব মিলিয়ে আমরা বড় ক্ষতির মুখে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভর্তুকির হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তা তাদের কোনো কাজে আসছে না। অনেক মেশিন অচল, আবার কিছু মেশিন বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে অন্যান্য এলাকা থেকে শ্রমিক আনা যায়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা চলছে। তবে কিছু মেশিন নষ্ট রয়েছে, যেগুলো মেরামতযোগ্য নয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন