হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে নির্মাণাধীন আঞ্চলিক সড়কে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিন যুবকের প্রাণহানির ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুতগতিতে চলা তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন- আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দনের ছেলে অন্তর (২৫), বানিয়াচং উপজেলার আমিরখানী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর এবং একই গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (৩২)।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) এবং গোছাপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে মিজান মিয়া (২৭)। তারা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বুরো বাংলাদেশ’-এর কর্মী। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে চলা তিনটি মোটরসাইকেল জলসুখা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেটে পাঠানো হয়।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে একসঙ্গে তিন যুবকের প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণাধীন সড়কে যান চলাচলের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।