আল্লাহর ভালোবাসা লাভের দোয়া

ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি ও আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা। তবে প্রকৃত ভালোবাসা কেবল আল্লাহর জন্যই হতে হবে। কাউকে ভালোবাসলে সেটাও আল্লাহর জন্যই হওয়া জরুরি। মূলত নবী কারিম (সা.)কে অনুসরণ করে আল্লাহর সকল বিধান মেনে চলার নামই আল্লাহর ভালোবাসা।

এছাড়াও ভালোবাসার কিছু ধরন রয়েছে। ব্যক্তি ও অবস্থাভেদে এ ভালোবাসায় তারতম্য হয়ে থাকে। এর মধ্যে এক ধরনের ভালোবাসা হলো- বুদ্ধিজাত ভালোবাসা। অন্যটি হলো- স্বভাবজাত ভালোবাসা।

স্বভাবজাত ভালোবাসা হবে এমন যে আল্লাহর সঙ্গে প্রাণের টান হয়ে যাওয়া। তার কোনো নির্দেশের কথা শুনলে তা পালেনের জন্য মন উদ্বেল বা অস্থির হয়ে ওঠা। এটা যদি কারও হয় তাহলে বুঝতে হবে এটি আল্লাহর প্রতি স্বভাবজাত ভালোবাসা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলেছেন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৩১)

আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য প্রিয়নবী (সা.) যেসব দোয়া পড়তেন, সেগুলো থেকে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো। আশা করি এর ওপর আমল করবেন।

ভালোবাসা আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। প্রতিটি প্রাণীকে তিনি ভালোবাসা দান করেছেন। তিনি সৃষ্টিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি তার বান্দাকে সওয়াবও দান করবেন। তবে সব রকম ভালোবাসা হতে হবে বৈধ ও আল্লাহ-রাসুল (সা.) এর আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় এই দোয়া করতেন: আল্লাহুম্মারজুকনি হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাঁইয়ানফানি হুব্বুহু ইনদাকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালোবাসাও দান করুন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৯১)

আল্লাহকে ভালোবাসার আরেকটি দোয়া

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাই ইউহিব্বুকা ওয়াল আমালাল্লাজি ইউবাল্লিগুনি হুব্বাক, আল্লাহুম্মাজআল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাফসি ওয়া আহলি ওয়া মিনাল মা-ইল বারিদ।

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার ভালোবাসা চাই। যে আপনাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা চাই। এমন আমল করতে চাই যা আপনার ভালোবাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। হে আল্লাহ! আপনার ভালোবাসা আমার কাছে আমার নিজের চেয়ে, আমার পরিবারের চেয়ে এবং ঠান্ডা পানির চেয়ে বেশি প্রিয় বানিয়ে দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৮৩৯০/ ৩৪৯০; রিয়াদুস সালিহিন, হাদিস : ১৪৯০)

আরও একটি দোয়া হলো

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) দোয়ার মধ্যে এই কথাগুলো বলতেন-আল্লাহুম্মার যুক্বনি হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাই ইয়ানফাউনি হুব্বাহু ইনদাকা, আল্লাহুম্মার যুক্বনি মিম্মা উহিব্বু ফাজআলহু ক্বুওয়্যাতান-লি ফিমা তুহিব্বু। আল্লাহুম্মা মা যাওয়াইতা আন্নি মিম্মা উহিব্বু ফাজআলহু ফারাগান লি ফিমাতুহিব্বু।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার ভালোবাসা আমাকে দান করুন। এবং ওই ব্যক্তির ভালোবাসা আমাকে দান করুন, যার ভালোবাসা আপনার নিকটে আমাকে উপকার দিবে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার যে প্রিয় বস্তু রিযিক হিসেবে দান করেছেন, সেগুলোকে আপনার ভালোবাসার বস্তুর শক্তিতে পরিণত করুন। হে আল্লাহ! আমি যা কিছু ভালোবাসি তার থেকে আপনি যা নিয়ে গেছেন, সেগুলোকে আপনি যা ভালোবাসেন তার জন্য মুক্ত স্থান বানিয়ে দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৯১)

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার দোয়া

কাইস ইবনে ওবাদা (রা.) বলেন, আম্মার ইবনে ইয়াসার লোকদের নিয়ে নামাজ পড়ালেন। তিনি নামাজটি সংক্ষিপ্ত করলেন,মনে হলো যেন লোকেরা তা অপছন্দ করল। তিনি তা বুঝতে পেরে বললেন, আমি কি রুকু ও সেজদা পরিপূর্ণ করিনি? তারা বলল হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন শোনো, আমি নামাজের মধ্যে ওই সকল দোয়া পড়েছি যেগুলো নবী (সা.) পড়েছেন।

আল্লাহুম্মা ইন্নি আছআলুকাশ শাওকা ইলা লিকায়িকা ওয়া লাজ্জাতান নাযরি ইলা ওয়াজহিকাল কারিম।

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার সাক্ষাতের আগ্রহ কামনা করছি এবং আপনার সম্মানিত চেহারার প্রতি দৃষ্টি দেয়া কামনা করছি। (নাসায়ি, হাদিস : ১৩০৫)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন