বাবা নেই। জীবনের শুরুতেই হারিয়েছে বাবার ছায়া। সেই শূন্যতা ও নানা প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়েও থেমে থাকেনি স্বপ্নের পথচলা। মায়ের ভালোবাসা, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকে শক্তি করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মেধাবী শিক্ষার্থী এশওয়ান শাহ।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় এশওয়ান। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ১০৭৭৩৮। ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
এশওয়ানের বাবা মরহুম দিলদার হোসেন। বাবাকে হারানোর বেদনা ও অভাবকে বুকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গেছে সে। তারই ফল হিসেবে এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এশওয়ান।
এশওয়ানের মা রেবেকা সুলতানা রুজি ছেলের এ সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে ছেলের পড়াশোনায় উৎসাহ ও মানসিক শক্তি জোগাতে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনাও এশওয়ানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এশওয়ানের সাফল্যে গর্বিত তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এই ফলাফলকে তারা অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
এশওয়ানের এ অর্জন শুধু তার পরিবারের জন্য আনন্দের নয়, বরং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার। বাবাকে হারানোর কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলা এশওয়ান ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে পরিবার ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশা তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।