জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী গতানুগতিক ২০২৬-২৭ বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ-জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।
মিছিলটি রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মূখ হতে বেড় হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাত উদ্দিন চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাংকুর দাস জহরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, স মিল শ্রমিক সংঘ সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া,সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন জেলাকমিটির সভাপতি সুরন্জিত দাস,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক সংঘের সভাপতি আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিনন্দ কর প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে জনগণের উপর করের বোঝা চাপিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকারগুলোর মতই বর্তমান সরকারও সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করছে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রচলিত নয়াঔপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সকল সরকারের বাজেটই জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী হয়েছে। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সকল দালাল সরকারগুলিই বাজেট প্রণয়ণের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। এসব বাজেট শোষণ-লুণ্ঠনের দলিল হওয়ায় এসব বাজেট জাতীয় ও জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিবারই লুটপাটের স্বার্থে বাজেটে ক্রমাগতভাবে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ করের জাল বৃদ্ধি করা হয়। সাম্রাজ্যবাদ ও তার বিশ্বসংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতি নির্দেশে বাজেটে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফা ও লুটপাটের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা আর বলেন সরকারের মালিকানায় কোন শিল্প কারখানা না থাকায় অথবা কৃষিকে কেন্দ্র করে সরকারের নিজস্ব কোন পরিকল্পনা না থাকায় দেশের শিল্প ও কৃষি থেকে সরকারের সরাসরি কোন আয় নেই। ফলে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের জন্য একমাত্র নির্ভর করতে হয়েছে জনগণের উপর আরোপিত ভ্যাট-করের উপর। ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটের ঘাটতি মেটাতে দেশী-বিদেশী মাধ্যম থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার বেশি ঋণ এবং অনুদান নিতে হবে। এই ঋণ ও ঋণের সুদ শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়। নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবিত বাজেট কে বেকারত্ব সৃষ্টি, মুলা স্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির বাজেটের আখ্যায়িত করে গণবিরোধী দিক তুলে ধরে জনগণকে তা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রচলিত স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান।
