বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের ২.৫ কিলোমিটার স্থানে করচারপাড় গ্রাম এলাকায় ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্রিজ নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এলাকার মানুষ। এই আশঙ্কায় ব্রিজ ঠেকাতে তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। মধ্যস্বত্তভোগীরা জেদবশত এলাকাবাসীকে ক্ষতির মুখে ফেলে ব্রিজ নির্মাণে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের করচারপাড় গ্রাম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ ও হেলেপড়া ছোট একটি কালভার্ট রয়েছে। বিগতদিনে এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে মালিকানা ভূমিতে সরকারি টাকা অপচয় করে ‘অপরিকল্পিত’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ এই কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। ২০২২ ও ২৪ সালের বন্যায় কালভার্টটি ভেঙে যায়। পাশাপাশি কালভার্টের নিকটবর্তী বসতবাড়ির মাটি পড়ে কালভার্টটি প্রায় অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে। কালভার্টস্থলে সড়কের দুই পাশে অত্রালাকার শতশত একর ফসলি জমি, ভিটাবাড়িসহ মালিকানা ভূমি রয়েছে। ক্ষতিগস্থ কালভার্টের উত্তর পার্শ্বে দিগর বেড়কুড়ি মৌজার জেএলনং- ১৩৬, দাগ নং-২৫৯, ২৬২ ও ২৬৩ ভূমির মালিক সুলেমান মিয়া ও সাইদুল ইসলাম মশাহিদসহ আরও কয়েকজন। যা বাড়ি ও আমন ক্ষেতের ভূমি। এছাড়া, কালভার্টের দক্ষিণ দিকে বাড়ি ও আমন ক্ষেতের ভূমিতে ১৭০, ১৭৪ ও ১৭৫ নং দাগে আব্দুল বারী, মাহতাব উদ্দিন ও আব্দুল আলীসহ আরও কয়েকজনের মালিকানা রয়েছে।
করচারপাড় গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই কালভার্টস্থলে প্রায় ৬০ ফুট দৈর্ঘের একটি ব্রিজ নিমার্ণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিগত দিনে কালভার্টের দুই পাশে সরকারি কোন খাল বা নালা ছিল না, এখনও নেই। এছাড়া, বিগতদিনে সেখানে মাটির রাস্তা থাকতেও কোনো কালভার্ট ছিলনা। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে এই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। এমতাবস্থায় এই কালভার্টস্থলে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে আমাদের ভিটেবাড়ি, ক্ষেতের জমি ও ফসলাদি ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তাই এখানে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণে আমরা জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের ক্ষয়-ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। একই সাথে ভেঙেপড়া কালভার্টটি সরিয়ে নিতে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে, ভিটাবাড়ি ও ফসলি জমির পাশে ব্রিজ নির্মাণ ঠেকাতে বিগতদিনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের নিকট একাধিকবার লিখিত আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে এলাকাবাসীর পক্ষে বালাগঞ্জ উপজেলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
২১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করচারপাড় গ্রামের সাইদুল ইসলাম মসাইদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমাদের মালিকানা ভূমিতে ব্রিজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্টদেরকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি। অন্যতায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। এমনকী আমরা অপপ্রচারকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধাবোধ করবো না। সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে উল্লেখ তিনি বলেন, আমরা আমাদের মূল্যবান ভূমি রক্ষায় সরকারের কাছে ন্যায্য দাবি জানাচ্ছি, অন্যদিকে আমাদের ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়ে ব্রিজ নির্মাণে অতি উৎসাহী কুচক্রীমহল নানাভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে আমাদের সম্মানহানি করছে। ওই কালভার্টের অতি নিকটে রাধাকোনা এবং করচারপার গ্রামের মধ্যস্থলে করচার খালের উপর একটি বিগত দিনের বন্যাক্রান্ত একটি ব্রিজ রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া ব্রিজটি করচার খালের উপর পুনঃস্থাপন করা হলে অত্রালাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। তাই নতুন বরাদ্দ পাওয়া ব্রিজটি করচার খালের উপর স্থাপনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, করচার খালের সাথে পিংলাকোনা খাল নামে একটি সরকারি খালের সংযোগ রয়েছে। বিগত ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় পিংলাকোনা খাল পলিতে ভরাট হওয়ায় এই খাল দিয়ে পানি যথাযথভাবে প্রবাহিত হচ্ছে না। ওই পিংলাকোনা খাল দিয়ে পিংলাকোনা হাওড়ের পানি করচার খালে গিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করচার খাল ও পিংলাকোনা খালের পানি স্থানীয় হাওড়গুলোতে প্রবেশ করায় মানুষ ক্ষেত-কৃষির কাজে উপকৃত হচ্ছেন। তাই অনতিবিলম্বে পিংলাকোনা ও করচার খালটি খননের জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় লোকজন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করছে। তারা মিথ্যাচার করে বলছে, করচারপাড় গ্রামের কবরস্থান নাকি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কবরস্থানে মাটি ভরাট করে ৮ থেকে ১০ফুট উঁচু করা হয়েছে। যা বর্তমানে কমপক্ষে ৫ ফুট উঁচু রয়েছে। আমরা এই মিথ্যাচারে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আব্দুল বারী, সুলেমান মিয়া, মাহতাব উদ্দিন ও আব্দুল আলী, ফাতেহা বেগম, পারভীন বেগম, জিলু বেগম, রেজিয়া বেগম মেহতাব বেগম, রানী বেগমসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী বলেন, এলাকাবাসী সেখানে ব্রিজ নির্মাণে আপত্তি তুলেছেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।