সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গভীর রাতে ড্রেজার মেশিনসহ নানা ধরণের মেশিন দিয়ে পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলনে বালুখেকোদের তান্ডবে যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পারে শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধাম, পণতীর্থের স্নানের ঘাট, নির্মাণাধীন সড়ক এবং সেতুসহ অর্ধশত কোটি টাকার বেশি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারাগাঁও এলাকায় মন্দির কমপ্লেক্স, সড়ক ও সেতুসহ অর্ধশত কোটি টাকার সেতু নির্মাণাধিন রয়েছে।
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটি মন্দির কমপ্লেক্স রক্ষায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ ও গত ৫ ফেব্রয়ারি সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন,জমির মালিকানা দাবীর সাথে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা কানন বন্ধু রায় ও সেতু রঞ্জন রায়। তারা দুই জন্য স্থানীয় বালু খেকোদের সাথে আতাত করে এই অনিয়ম করছেন অভিযোগ করেন।
অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থ কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও অদ্বৈত রায়ের স্বাক্ষর করা লিখিত আবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে,স্থানীয় রাজারগাঁওয়ের দুই বাসিন্দার নামোল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে কানন বন্ধু ও সেতু রঞ্জনরা নদীর ভেতরের ভেসে ওঠা চর মৌখিক চুক্তিতে বালু খেকোদের কাছে বিক্রয় করে টাকা নিচ্ছেন,সেকারণেই বেপরোয়া হয়েছে বালুখেকো চক্র। প্রায় ৭০ বছর হয় রাজারগাঁওয়ের পাশে যাদুকাটার তীরে লাখো পুণ্যার্থী গঙ্গা পূজার করছেন। গত এক সাপ্তাহ ধরে গভীর রাতে এই চর কেটে নিয়ে যাচ্ছে কিছু বালুখেকো চক্র। সে কারনে অদ্বৈত জন্মধামে নির্মিতব্য প্রায় ২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় যাদুকাটা নদীর পাড় বাঁধাই করে ওখানে গঙ্গা পূজার সুবিধার্থে দুটি ঘাট নির্মিত হবে। পাড় ঘেঁষে চলছে শাহ্ আরেফিনের মোকাম, বারেকের টিলা, শিমুল বাগান, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী লেক) ও টাঙ্গুয়ার হাওরে যাতায়াতের নির্মাণ সড়কের কাজ। যে ভাবে তীর থেকে বালু কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে এই সড়ক নির্মাণের আগেই নদীগর্ভে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এছাড়াও মন্দির, স্নানের ঘাট নদীগর্ভে বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে গঙ্গা স্নানোৎসবে আসা লাখো পুন্যার্থী স্নান সারতে সমস্যায় পড়বেন,সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হবে। তার জন্যই জনস্বার্থে,জরুরি ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক পাড় কাটায় জড়িত দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানানো হয় মন্দির কমিটির পক্ষে।
গত ৫ ফেব্রয়ারি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর করা লিখিত আবেদনে অদ্বৈতাচার্য মন্দির কমপ্লেক্স উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়) কে লিখিতভাবে এ বিষয়ে অবগত করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অদ্বৈত মহাপ্রভুর মন্দির সংলগ্ন স্থান হতে বালু ও নুড়ি পাথর উত্তোলন করায় মন্দিরের পাশের একটি বক্স কার্লভার্ট, মন্দির, মন্দির কমপ্লেক্স এর পাশ দিয়ে যাওয়া সীমান্তের সংযোগ সড়ক নদীতে বিলিন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে।
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অদ্বৈত রায় জানান,মালিক সেজে যাদুকাটার পাড় কেটে এলাকাবাসীকে বিপদের মধ্যে ফেলেছিল আগেও আবারও সেই আশঙ্কায় জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেছি। এছাড়াও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার,পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে রাজারগাঁওয়ের কানন বন্ধু রায় এর ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যায় নি।
তবে এই বিষয়ে সেতু রঞ্জন রায় জানায়,আমার রেকর্ডিয় জমি নদীতে যাওয়ার কারনে বালু উত্তোলন যারা করছে তাদের বাধা দিয়ে কোন ভাবে ঠেকাতে না পারায় বাধ্য হয়েই কিছু মানুষের কাছে মৌখিক চুক্তি করে জায়গা দিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, অদ্বৈত জন্মধামের পাশের নদীর পাড়ের বালু তুলতে ও নদীর পাড় কেটে বালু তুলতে দেওয়া হবে না কাউকে সে যত বড় শক্তিশালী হউক না কেন। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে,কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
