নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কৃষক
বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হাওরের বোরো ক্ষেতে, ফসল ডুবার আশঙ্কা

সুনামগঞ্জের বোরো ভাণ্ডার খ্যাত দেখার হাওরের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে স্বেচ্ছায় বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে এলাকার শত শত কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৈমারা নদী জলমহালে গত মাসে মাছ শিকার করেন বড়দই বিলের ইজারাদাররা। তারা নদীর বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করে মাছ শিকার করেন।

তবে ফেরার সময় তারা বাঁধটি ভালো করে বেঁধে যাননি। ফলে মার্চ মাসের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিতে বাঁধটি দুর্বল হয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা বারবার প্রশাসন ও পাউবোকে বিষয়টি জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ কৃষকদের। শনিবার সকালে পানির চাপে বাঁধ ভেঙে গেলে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে।

তখন স্থানীয় কৃষকরা ওড়া, কোদাল, বাঁশ, বস্তাসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করতে থাকেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, বাঁধ ভাঙার ফলে দেখার হাওরে থাকা সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেখার হাওরে ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমি রয়েছে। এর বেশিরভাগ জমিতেই বোরো ধান চাষ করেছে কৃষক। বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে হাওরের বেশিরভাগ জমিই ডুবে যাবে।

শান্তিগঞ্জের আস্তমার কৃষক এনামুল হক বলেন, বড়দই বিলের লোকজন মাছ ধরার সময় বাঁধটি কেটেছিল। পরে তারা দায়সারা কাজ করে চলে গেছে। এখন পানি বাড়ায় এই বাঁধ ভেঙে দেখার হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার জানালেও গুরুত্ব দেয়নি প্রশাসন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবস্টেশন কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম বলেন, জলাশয়ের ইজারাদার মাছ ধরার পর বাঁধের কাজ ভালো করে করেনি। ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে খবর পেয়ে আমরা ৩০০ বস্তা ও বাঁশ দিয়েছি। কৃষকরা এখন বাঁধ রক্ষার কাজ করছে। পানি নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। আশা করি বড়ো সমস্যা হবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন