টেস্ট ম্যাচটি নিশ্চিত ছিল আগে থেকেই। ওয়ানডেতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হবে নাকি ত্রিদেশীয়, সেটি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা ছিল। অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামী মাসে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের পর জিম্বাবুয়েকে সঙ্গে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)
ম্যাচগুলোর তারিখ ঘোষণা করা হলেও এখন ভেন্যু নিশ্চিত করেছে এসিবি। তবে সংযুক্ত আবর আমিরাতেই হবে ম্যাচগুলি। নিজেদের হোম আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো আমিরাতের বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলে থাকে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি শুরু আগামী ৯ অক্টোবর। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু ১৭ অক্টোবর। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ১৯ অক্টোবর লড়বে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে, ২১ অক্টোবর আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। প্রতি দল একবার করে পরস্পরের মুখোমুখি হওয়ার পর ফাইনাল ২৩ অক্টোবর।
ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। এই সিরিজ শুরু ২৭ অক্টোবর। এরপর দুই দল লড়বে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। সেটি শুরু ৫ নভেম্বর।
এসিবির প্রধান নির্বাহী নাসিব খান বলেন বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের বোর্ডের সঙ্গে আফগানদের সম্পর্ক আরও জোরাল করবে এই সিরিজগুলো।
“আফগানিস্তান জাতীয় দলের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি নিশ্চিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিভিন্ন সংস্করণে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা আমাদের খেলোয়াড়দের মূল্যবান প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ দেবে এবং আমাদের সমর্থকদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি উত্তেজনাপূর্ণ সময় উপহার দেবে।”
জাতীয় দলকে নিয়মিত, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই আমরা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সূচিগুলো সম্ভব করে তোলার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতার প্রশংসা করি।”
সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখনও পর্যন্ত ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে টেস্ট ম্যাচ খেলবে তারা এবারই প্রথম। এটিকে দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি।
“টেস্ট ম্যাচ এবং ত্রিদেশীয় সিরিজটি বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান উভয় দেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট মৌসুমের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমরা টেস্ট ক্রিকেটকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাদের ক্রিকেটারদের লাল বলের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা জন্য হবে এটিই প্রথম। এই কন্ডিশনে আফগানিস্তান বরাবরই ভালো খেলে আফগানিস্তান এবং তাদের বিপক্ষে নিজেদের চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি চমৎকার সুযোগ হবে এটি।
এই সফর এবং ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করার জন্য আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই আমরা। আশা করি, দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টুর্নামেন্ট হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই উত্তেজনাপূর্ণ কয়েকটি সপ্তাহের জন্য মুখিয়ে আছি আমরা।”
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চরম ব্যস্ত এক সময়ের সূচনা হবে এই মাসের শেষ সময় থেকে। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিযান শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর। সেটি শেষ হওয়ার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেস্ট ম্যাচ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ। সেই ত্রিদেশীয় সিরিজটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচ খেলে দেশে ফিরবে ২৪ অক্টোবর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু ২৮ অক্টোবর। সেই সিরিজ শেষ হবে ৯ নভেম্বর। এই সিরিজ শেষেই দক্ষিণ আফ্রিকার পথে উড়াল দেবে দল। জোহানেসবার্গে প্রথম টেস্ট শুরু ১৫ নভেম্বর।
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সফর শেষ হবে ১৩ ডিসেম্বর। এরপর দেড়-দুই মাসের মতো খেলা থাকবে না জাতীয় দলের। ব্যস্ততা থাকবে তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে। যদিও ভারতের বিপক্ষে স্থগিত হওয়া সিরিজটি জানুয়ারিতে আয়োজনের আলোচনা চলছে। তবে সেটির সম্ভাবনা এখনও সামান্যই। ফেব্রুয়ারিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবে ইংল্যান্ড।
