সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে বেড়াতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে এসে স্রোতের পানিতে তলিয়ে যাওয়া সেই শিক্ষার্থীর মরদেহ দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত শান্ত চন্দ্র বণিক ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কীর্তিশ চন্দ্র বণিকের ছেলে। তিনি শাবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষার্থী মিলে সিলেটের সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা বিছানাকান্দিতে বেড়াতে যান। বিকেলের দিকে তারা জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে পানিতে নামেন। এ সময় শান্তসহ পাঁচজন বন্ধু গোসল করতে নামলে হঠাৎ প্রবল স্রোতের টানে তিনজন পানিতে তলিয়ে যান।
স্থানীয় নৌকাচালক ও পর্যটকদের সহযোগিতায় দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্ত নিখোঁজ হয়ে যান। তার বন্ধুদের কান্না আর আতঙ্কে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় টুরিস্ট পুলিশ, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী টানা অনুসন্ধানের পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে শান্তর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় সেখানে উপস্থিত সহপাঠীদের অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বিছানাকান্দিতে পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির স্রোত বেড়ে যায়। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা সম্পর্কে অনেক পর্যটক সচেতন না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহপাঠী ও বন্ধুদের অনেকেই শান্তর স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “সকালেও যে বন্ধু হাসছিল, সন্ধ্যায় সে লাশ হয়ে ফিরবে—এটা মানতে পারছি না।”
পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটকদের গোসলে নামা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।