বিদেশে স্থায়ী হতে তারকাদের আবেদন

গত কয়েক মাস ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তারকা বিভিন্ন দেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ৮০ ভাগই যুক্তরাষ্ট্রে চেষ্টা করছেন স্থায়ী হওয়ার। এদিকে, বড় একটি অংশ রাজনৈতিক কারণে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। আগামী অন্তত পাঁচ বছর সেখানেই থিতু হতে চান। বিশেষ করে গ্রেপ্তার, আইনি জেরা কিংবা অন্য যেকোনো হয়রানি এড়াতেই তাদের এমন সিদ্ধান্ত। আবার কিছু তারকা উন্নত জীবনের আশায়ও বিদেশে স্থায়ী হতে চান।

৫ই আগস্টের পর চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই লাপাত্তা হয়ে যান। মাস দুয়েক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যন্ত পাওয়া যায়নি তাদের। দেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তারা। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন- চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও রিয়াজ। ৫ই আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অনেকটাই লাপাত্তা হয়ে যান ফেরদৌস। একটি সূত্র মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি সেখানে পাড়ি দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারণার নিয়মিত মুখ ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। তিনিও ৫ই আগস্টের পর দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। ফেরদৌস যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী একাধিক তারকা।

অন্যদিকে, রিয়াজের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র্রের এক বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী  জানান, অর্ধশতেরও বেশি শোবিজের মুখ ইতিমধ্যে স্থায়ী হতে আবেদন করেছেন। যদিও এই মুহূর্তে স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি অতটা সহজও নয়। তবে তারা দীর্ঘ সময় এখানে অবস্থান করে আবেদন করছেন। এদিকে, গত সরকারের প্রচারণায় অংশ নেয়া অভিনেত্রী তারিন জাহান বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তিনিও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

এদিকে, উন্নত জীবনের আশায় ও রাজনৈতিকসহ নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার তালিকায় রয়েছেন- লিটু আনাম, বাপ্পী চৌধুরী, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, অমিত হাসান, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, সোনিয়া হোসেন, সাজু খাদেম, রেশমী মির্জা প্রমুখ। ঢাকাই ছবির সুপারস্টার শাকিব খান বেশ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। তার সাবেক দুই স্ত্রী- চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস এবং শবনম বুবলীও রয়েছেন সেখানে স্থায়ী হতে চাওয়ার তালিকায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন চিত্রনায়িকা শাহনূরও। তিনিও সেখানে স্থায়ী হতে চাচ্ছেন। অন্যদিকে, চিত্রনায়িকা অধরা খানও এরইমধ্যে কানাডায় স্থায়ী হয়েছেন।

যদিও তিনি দেশে যাওয়া-আসার মধ্যেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন। গত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারও দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তাকে বিমানবন্দরে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। বর্তমানে তিনি দেশেই রয়েছেন। এদিকে, তারকাদের অনেকেই স্থায়ী হতে আবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তারকা দম্পতি হিল্লোল-নওশীনের এজেন্সির মাধ্যমে। অনেকে আবার সহযোগিতা নিচ্ছেন বাংলাভিশনের সাবেক অনুষ্ঠান প্রধান শামীম শাহেদের। এসব তারকার আগে বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন শতাধিক তারকা।

তাদের মধ্যে রয়েছেন- শাবানা, আফরোজা বানু, লুৎফন নাহার লতা, শিরিন বকুল, তৌকীর আহমেদ, বিপাশা হায়াত, মৌসুমী, টনি ডায়েস, প্রিয়া ডায়েস, তমালিকা কর্মকার, হিল্লোল, নওশীন, রিয়া চৌধুরী, স্বাধীন খসরু, রিচি সোলয়ামান, শ্রাবন্তী, বিপ্লব (প্রমিথিউস), মিশা সওদাগর, দিনাত জাহান মুন্নী, কাজী মারুফ, মোনালিসা, রোমানা, ইবরার টিপু, জেকে মজলিশসহ আরও অনেক তারকা। এর বাইরে ভারতে অঞ্জু ঘোষ, কানাডায় শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, অগ্নীলা, আমব্রিন, অস্ট্রেলিয়ায় শাবনূর, সুইডেনে রয়েছেন তামান্না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন