
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিরাট উজানপাড়া ও ভাটিপাড়ার নয়াবন হাওরে এখনো পৌঁছায় নি সেচ প্রকল্পের পানি। অন্য বছর থেকে এবছর মাস খানেক পার হলেও হাওরে মিলছে না পানি। সঠিক সময়ে পানি না পাওয় মূল্যবান সময়টুকু পার হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারন কৃষকরা।
কৃষকদের কৃষিকাজে পানির অভাবে বিড়ম্বনা শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্গা চাষিদের হতাশায় কাটছে প্রতিটি প্রহর।মালিকানাধীন কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন জন্য জমি বর্গা নিয়ে বিপাকে সাধারণ কৃষকেরা।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ কৃষিখাতেই এগিয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের একমাত্র বিনিয়োগ করে এই কৃষিখাতেই।বিরাট উজানপাড়া নোয়াবন হাওরে পানি না পাওয়ায় ৬৫১একর জমির চাষাবাদ করা যাচ্ছে না এখনো। কবে কখন পানি হাওরে পৌছাবে বলতে পারছেন না কেউই।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, দু’পক্ষের বেড়াজালে আটক এই সেচ প্রকল্পের কাজ। বিএনপির নেতার মাসুম তালুকদার এবছর সেচ প্রকল্পটি লিজ আনেন। লিজ আনার পর সেঁচের মেশিন বসানের জায়গা নিয়ে বিপাকে পেরেছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মোবারুল গত কয়েকবছর সেচ প্রকল্পটি পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের দাবি মেশিন বসানোর জায়গাটি সরকারি খতিয়ানে ছিলো। বেশ কয়েক বছর তিনি প্রকল্পের দায়িত্ব থাকায় সিস্টেমে জায়গাটি নিজেদের নামে উটিয়ে নিয়েছেন। একই জায়গায় সেচ প্রকল্পের মেশিন বসানো নিয়ে তৈরি হয় দুজনের দন্দ।
সাবেক চেয়ারম্যান লোকজনের দাবি তাদের মালিকানাধীন জায়গা হওয়ায় ঐ স্থানে সেচ প্রকল্পের মেশিন বসানোর বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তৈরি হচ্ছে আতংক। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন।কয়েকজন স্থানীয় কৃষক জানায় আমরা পোষ মাসের শুরুতেই কাজ শেষ করি। এবছর এখনো পানি না আসায় আমরা চাষাবাদ করতে পারছি না। সময় মতো পানি না আসলে হাওর খালি তাকবে ফলে সাধারণ কৃষকেরা হবে ক্ষতিগ্রস্থ।
৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার ফসল থেকে বঞ্চিত হবে কৃষকরা। গত কিছুদিন আগেও সমাধানে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম দু’পক্ষের লোকজনদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেন। এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, সম্প্রতি জানতে পেরেছি সেচের পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করবো।
বিএডিসির সেচ প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রেজাউল করিম জানান, অতিদ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে। কৃষকদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।