- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ বিজিবি-৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বলেছেন, সরাইল রিজিয়নের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯১৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য, চোরাচালানপণ্য ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৮১ জনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত চারটি সেক্টরের অধীনে রয়েছে। সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীন মোট ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিজিবি সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে গত আট মাসে এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

বিজিবির তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন অভিযানে ১১টি পিস্তল, ৭টি ম্যাগাজিন, ৭টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর ও ৩০ মিটার ডেটোনেটিং কর্ড উদ্ধার করেছে।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৩ হাজার ১৬৮ কেজি গাঁজা, ৫৮ হাজার বিদেশি মদ, ১৪ হাজার ৩০০ বিয়ার, ফেনসিডিল, স্কাফ সিরাপ, ৩ লাখ পিস বিভিন্ন যৌন উদ্দীপক ট্যাবলেট এবং ১৫১ লিটার চোলাই মদ। এসব ঘটনায় ২৮১ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

এদিকে সীমান্তের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন প্রতিরোধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরাইল রিজিয়নের ময়মনসিংহ ও সিলেট সেক্টরের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ঘনফুট পাথর ও ৬ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিক কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছে সরাইল রিজিয়নের অধীন ব্যাটালিয়নগুলো। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় প্রযুক্তির ব্যবহার করে ড্রোনের মাধ্যমে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালনা করছে বিজিবি। সিলেট সেক্টরের উদ্যোগে স্থানীয় নারী ও তরুণ-তরুণীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণ-তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ পথে অর্থ উপার্জনে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন