হযরত শাহজালাল (রহঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ বাংলাদেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, প্রবাসীদের সাথে অসদাচরণ, লাগেজ ভাংচুর এবং লাগেজ থেকে পণ্য চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে সিলেট কল্যাণ সংস্থা, সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার যৌথ আয়োজনে বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ৩০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচী, দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হতে জিন্দাবাজার পয়েন্ট, ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট হয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত পদযাত্রা ও দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ ৭ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বরাবর (মাধ্যমঃ জেলা প্রশাসক, সিলেট) স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের সভাপতিত্বে ও সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি এম.এ আলী জালালাবাদী। ৩০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচীতে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা যুব উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম শিতাব, বৈশাখী যুব কল্যাণ পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন উজ্জল, সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাস। অবস্থান কর্মসূচী, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সিকস’র কার্যকরী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ তালেব হোসেন তালেব, সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, সহ-সভাপতি অবিনাশ চন্দ্র দাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী মিলাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল আহমদ, সহ-অর্থ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আল-আমিন আহমদ, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোঃ সেলিম খান, যোগাযোগ ও সমন্বয় সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক কবি মকসুদ আহমদ লাল, সহ-দূর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ আলী হায়দার, সিলেট মহানগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দিপক কুমার মোদক বিলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, মহানগর কমিটির সদস্য মোঃ জুয়েল মিয়া, নেতৃবৃন্দদের মধ্য থেকে দিলীপ আচার্য, হরিমোহন রায় ও মোঃ আব্দুল লতিফ।
স্মারকলিপির বিষয়বস্তুঃ দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী সমাজ এবং তাদের পরিবারবর্গ। দেশের প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, যখন প্রবাসীরা নিজ দেশের বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, তখন তাঁদের চরম হয়রানি ও অসম্মানের সম্মুখীন হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরে প্রবাসী যাত্রীদের সাথে দায়িত্বরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অসৌজন্যমূলক ও অসদাচরণমূলক আচরণ করে থাকেন। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে অহেতুক দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, ট্রলির জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা, অশোভন ভাষায় কথা বলা এবং নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করার মতো ঘটনা ঘটছে, যা একজন সম্মানিত প্রবাসীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। একইসাথে লাগেজ নিয়ে প্রবাসীদের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রায় প্রতিটি ফ্লাইটেই যাত্রীরা তাদের লাগেজ ভাঙা, তালা ভাঙা বা কাটা অবস্থায় পাচ্ছেন। অতি কষ্টে ও ভালোবাসায় পরিবারের জন্য আনা মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য শখের জিনিসপত্র লাগেজ থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে। এই চুরি ও ভাঙচুরের কারণে প্রবাসীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হচ্ছেন। বিমানবন্দরের মতো একটি স্পর্শকাতর ও নিরাপদ স্থানে এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে বাংলাদেশী প্রবাসীসহ বহির্বিশ্বে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী ও একই বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরীরত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে যথোপযুক্ত শাস্তি, বদলী ও প্রয়োজনে প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। দেশের স্বার্থে ও প্রবাসীদের সম্মান রক্ষার্থে আমরা আপনার নিকট বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিমানবন্দরের সকল স্তরে যাত্রী হয়রানি ও অসদাচরণ কঠোরভাবে বন্ধের নির্দেশ প্রদান, ট্রলির সংখ্যা বৃদ্ধি, লাগেজ হ্যান্ডেলিং এরিয়ায় শতভাগ সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিতকরণ ও চুরির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য একটি কার্যকর প্রবাসী সহায়তা সেল গঠনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।
