পবিত্র রমজান মাসে ও মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-উৎসবে খেজুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক অনুষঙ্গ। তবে শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পুষ্টিগুণ ও অনন্য স্বাদের কারণে এ ফলের কদর অনেক। ফলটির বৈশ্বিক চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার হাতে গোনা কয়েকটি দেশ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে প্রায় ৯৫ লাখ টনের বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়। নীল নদের দেশ মিসর বর্তমানে সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদন করে। এরপর ইরান ও সৌদি আরব।
ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদনকারী ১০ দেশ সম্পর্কে জানা যাক:
ওমান
আরব উপদ্বীপের ছোট দেশ ওমানের অর্থনীতিতে খেজুর চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেখানে বছরে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টন খেজুর উৎপাদিত হচ্ছে।
দক্ষিণ সুদান
খেজুর উৎপাদনে প্রথাগতভাবে সুদান দীর্ঘকাল আধিপত্য দেখালেও সেই তালিকায় এখন নতুন করে নাম লিখিয়েছে দক্ষিণ সুদান। দক্ষিণ সুদান বছরে ৪ লাখ ৩২ হাজার ১০০ টন খেজুর উৎপাদন করে বিশ্বের নবম স্থানে উঠে এসেছে।
সুদান
আফ্রিকা মহাদেশের সুদান বছরে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টনের বেশি খেজুর উৎপাদন করে। সুদানের খার্তুম ও উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সবচেয়ে বেশি খেজুর চাষ হয়। সুদানের খেজুর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বেশ চাহিদাসম্পন্ন।
আলজেরিয়া
উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় বছরে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টনের বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে খেজুরের বাগান রয়েছে।আলজেরিয়ার দেগলেত নুর নামের খেজুর বৈচিত্র্য ও স্বাদের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এটিকে ‘কুইন অব ডেটস’ বলা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুর উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটিতে বছরে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টনের বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়। আমিরাতের আবুধাবি, আল-আইন ও ফুজাইরাহ অঞ্চল সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদন হয়।
পাকিস্তান
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদন করে পাকিস্তান। দেশটির বার্ষিক উৎপাদন সাড়ে ৫ লাখ টনের বেশি।পাকিস্তানের সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সবচেয়ে বেশি খেজুর চাষ হয়। পাকিস্তানি খেজুর ভারত, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হয়।
ইরাক
ইরাক একসময় খেজুর উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে দেশটি পিছিয়ে পড়েছে। ইরাক বর্তমানে বছরে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪০ টন খেজুর উৎপাদন করছে।
আশির দশকে ইরাকে তিন কোটি খেজুরগাছ ছিল, যা যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে দেশটি আবার এই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনে গতি ফেরাচ্ছে।
সৌদি আরব
মরুভূমির দেশ সৌদি আরব বছরে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৩ টন খেজুর উৎপাদন করে। দেশটির প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার একর জমিতে খেজুর চাষ হয়। সৌদি আরবের আল-কাসিম, আল-মদিনা ও আল-আহসা অঞ্চল খেজুর উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।
সৌদি আরবের আজওয়া, সুক্কারি ও আম্বার খেজুর আন্তর্জাতিকভাবে বেশ জনপ্রিয়। দেশটির খেজুর রপ্তানির বড় একটি অংশ যায় জর্ডান ও ইয়েমেনে।
ইরান
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইরান বছরে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টন খেজুর উৎপাদন করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল খেজুর চাষের জন্য বেশ জনপ্রিয়। স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য ইরানের খেজুর বিশ্ববাজারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে তাদের অবদান ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ইরানের খেজুরের বড় ক্রেতা ভারত, মালয়েশিয়া ও রাশিয়া।
মিসর
খেজুর উৎপাদন ও চাষাবাদে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ মিসর। দেশটি বছরে প্রায় ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৫২৯ টন খেজুর উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ১৭ শতাংশের বেশি। ১৯৯৩ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির উৎপাদন শতভাগ বেড়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, মিসর বিশ্বের মাত্র ৩ শতাংশ খেজুর রপ্তানি করে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি রপ্তানি হয় মরক্কোতে। মিসরের খেজুর সুস্বাদু ও রপ্তানিযোগ্য মানের হওয়ায় তা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ায়ও বেশ জনপ্রিয়।
