- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে পরিচিত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘কলেজ দ্য সারবন’, যা পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত সারবন বিশ্ববিদ্যালয় (University of Paris) হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত ইউরোপীয় শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রসারে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনবদ্য।

প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপত্তি দ্বাদশ শতকে হলেও তা মূলত কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ক্যাথেড্রাল স্কুলের সমষ্টি ছিল। পরে ফরাসি রাজা নবম লুইয়ের রাজকীয় ধর্মযাজক ও প্রখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ রোবের দ্য সারবন একটি স্থায়ী ও সুসংগঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মেধাবী ছাত্ররা যেন বিনামূল্যে ধর্মতত্ত্ব চর্চা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সে উদ্দেশ্যে তিনি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১২৫৭ সালে রাজা নবম লুই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেন এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সারবন বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। মধ্যযুগে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের সন্ধানে প্যারিসে ছুটে আসতেন। শুরুতে ধর্মতত্ত্বই শিক্ষার প্রধান বিষয় থাকলেও ধীরে ধীরে দর্শন, আইন, মানববিদ্যা ও বিজ্ঞানের নানা শাখা এখানে বিকশিত হতে থাকে। রোমান ক্যাথলিক চার্চের নীতিনির্ধারণ এবং মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় রাজনীতিতেও সারবনের পণ্ডিতদের গভীর প্রভাব ছিল। ফ্রান্সের প্রথম ছাপাখানাটি ১৪৭০ সালে সারবন প্রাঙ্গণেই স্থাপন করা হয়, যা শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

শত শত বছরের ইতিহাসে সারবন অনেক চড়াই-উতরাইর মুখোমুখি হয়েছে। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের সময় রাজতন্ত্র ও ধর্মীয় ভাবধারার সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন করেন এবং সারবনকে ফের ফ্রাঙ্কোফোন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৬৮ সালের মে মাসে ফ্রান্সে ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতির কেন্দ্রে ছিল এ সারবন প্রাঙ্গণ, যার ফলে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৩টি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানদণ্ডে সারবন সর্বদা শীর্ষস্থানে অবস্থান করেছে। মেরি কুরি, পিয়ের কুরি, বাঁশলো দ্য বোভোয়ার, জাঁ-পল সার্ত্রে, এবং অঁরি বের্গসঁর মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও নোবেল বিজয়ীরা প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আজও সারবন বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের এক প্রতীক। বিশ্ব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ৮৮০ বছরের বেশি পুরোনো এ বিদ্যাপীঠের অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন