২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল এককথায় চরম নাটকীয়তায় পূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকো জয় তুলে নিলেও মাঠের বিশৃঙ্খলার কারণেই বেশি আলোচনায় রয়েছে ম্যাচটি। ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইওকে পুরো ম্যাচে তিনবার পকেট থেকে লাল কার্ড বের করতে হয়েছে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোলে, ৮৪ মিনিটে থেম্বা জওয়ানে এবং যোগ করা সময়ে ৯২ মিনিটে মেক্সিকোর সিজার মন্টেস মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন কার্ডের প্রদর্শনী যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপের মাঠ কতটা উত্তপ্ত হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার ম্যাচ? উত্তর হলো, না।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি বিশৃঙ্খল হলেও চার লাল কার্ডের নজিরও দেখেছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কুখ্যাত ‘ব্যাটল অফ নুরেমবার্গ’-এর রেকর্ড আজও অটুট। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের সেই ম্যাচে রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানোভ উভয় দলের খেলোয়াড়দের মিলিয়ে মোট চারটি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। পর্তুগালের কস্তিনহা ও ডেকোর পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভানি ফন ব্রনখর্স্ট লাল কার্ড দেখেছিলেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উইলটন সাম্পাইও বর্তমান সময়ের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে অভিষেকের পর থেকেই তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন। ২০১২ সালে তিনি ব্রাজিলের সেরা রেফারিদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং ২০১৩ সালে ফিফার ব্যাজ অর্জন করেন। এরপর থেকে তিনি কোপা লিবার্তাদোরেস, কোপা সুদামেরিকানা এবং ২০১৮ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তার অভিজ্ঞতা বিশাল। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার পাশাপাশি কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তিনি বাঁশি বাজিয়েছেন। কনমেবল এবং ফিফার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবেই তিনি এবারের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করছেন।