বিশ্বকাপ ইতিহাসের সিংহাসনে মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। ৩-০ গোলের জয়ে শুধু দলকে উড়ন্ত সূচনাই এনে দেননি, একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নিজেকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল ফুটবলারদের কাতারে আরও উঁচুতে তুলে নিয়েছেন।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েন ৩৮ বছর বয়সী মেসি।

শুরুর একাদশে নামার মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়েন। বুধবার পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও এই রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে মেসি তার প্রথম গোল করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে ১৪ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান হয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা আগেই সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

তবে মেসির রূপকথার শুরুটা আরও আগেই হতে পারত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে তার একটি গোল বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তাতে থেমে থাকেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান একটি বল সামলাতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের ১৫তম গোলটি করেন মেসি।

এরপরই আসে আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি এবং বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। এর মাধ্যমে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকও করেন বটে। একই সঙ্গে এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২০তম গোল।

বিশ্বকাপে মেসির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে। কাকতালীয়ভাবে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় তার বিশ্বকাপ অভিষেকের ঠিক ২০ বছর পূর্তির দিনে।

ম্যাচের শেষ দিকে তাকে তুলে নেওয়া হলে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় রাতের সাক্ষী হয়ে গ্যালারি তখন মেসির নামে মুখর।

আগামী সপ্তাহে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি একসময় ছিলেন আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা। এবার তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক হ্যাটট্রিকদাতা হিসেবেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

এছাড়া বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও এখন তিনি।

শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে। সামনে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে আরও দুটি গ্রুপ ম্যাচ রয়েছে। সেখানে মেসির সামনে অপেক্ষা করছে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ।

আর যদি তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে দেশের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার কীর্তিও গড়বেন তিনি—যে কীর্তি কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাও অর্জন করতে পারেননি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন