- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

বিশ্বম্ভরপুরে ‘টাকা নিয়ে’ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ফ্যামেলী কার্ড দেয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিন। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে টাকা নেয়া সহ ৫ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

আল আমিন উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। তিনি ঔ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্য সংগ্রহকারীর তালিকায় তিনি ১৩ নাম্বারে আছেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ,একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ফ্যামেলী কার্ড নিতে গেলে টাকা লাগবে। অথচ ওই ব্যক্তির পাকাদালান ঘর রয়েছে। আর এই টাকা নেতাসহ অনেকেই দিতে হয় আর মিলেমিশে খাইতেও হয় বলেও শুনা গেছে। আর তিনটি গ্রাম নিয়েছেন টাকা দিয়ে। মহেন্দ্র নগর কিন্না আনতাছি।

দুই গ্যারামের (গ্রামের) টাকা নেতারা ভাগ নিবো, নেতারা টাকা খাইয়া লাইলে (খেলে) আমার কোনো গন্ধ ভাইইর (বের হবে না) হইত না। আমি তোমার কাছে ৫ টাকা খাইছি গন্ধ ভাইইর হইবো। সবাই মিল্লা খাইলাইতেছে (খাইলে) না তুফান আইলেও আমার কিছু হইত (হবে) না। দশ জনে কইবো আল আমিন ভালা। এসময় টাকা কম দিলে আল আমিন বলে আর কয়টাদিন অপেক্ষা করো ১০ হাজার টাকা দিয়াও পাইতানা। এছাড়াও ৫ মিনিটের ভিডিওতে অনেক কথাই বলেছেন ওই তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিন।

এদিকে ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার কাছে।

অভিযোগ দায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান। তিনি জানান,আমাদের দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ওয়াদা ছিলো দেশের অসহায় গরীব পরিবারের সদস্যদেরকে একটি করে ফ্যামেলী কার্ড দিবেন বিনা মূল্যে।  আর অনেকের কাছ থেকে ফ্যামেলী কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিন টাকা নিয়েছে,আমি শুনেছি,অনেকেই বলেছে। আমাদের দলের সুনাম নষ্ট করতেই আল আমিন এমনটা করছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে, আল আমিন বিগত কিছু দিন আগে ফ্যামেলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসাবে ধনপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চুড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হয়। এর পর থেকেই এলাকার খেটে খাওয়া নিরহ মানুষের কাছ থেকে ফ্যামেলি কার্ড করে দিবে বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এলাকার মানুষ বলতেছে আল আমিন এর কাছে টাকা নিয়ে গেলে কার্ড করে দিবে। এই অবস্থা গ্রামের মানুষের মনে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এবং সে যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফ্যামেলী কার্ড দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তার ভিডিও প্রমান সহ আছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি করেন।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিনের মোবাইল ফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার WhatsApp এ কল দিলে রিসিভ করেনি, পরে এসএমএস দিলেও কোনো উত্তর দেন নি।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার জানান, ফ্যামেলী কার্ড দেয়ার কথা বলে একজন তথ্য সংগ্রহকারী টাকা নেয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছে ভিডিও ফুটেজ শুনেছেন অনেকেই আমিও দেখেছি। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন। এই তথ্য সংগ্রহকারী এখন ও প্রশিক্ষণ নেয়নি তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন