সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নিজ কলোনির এক ভাড়াটিয়া নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কলোনির মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বনাথ পৌরসভার জানাইয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত নুর উদ্দিন (৫৫) ওই এলাকার মৃত আকরম আলীর ছেলে। তিনি টিএনটি রোড এলাকায় একটি ভাড়া কলোনির মালিক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৫০) দীর্ঘদিন ধরে নুর উদ্দিনের মালিকানাধীন ওই কলোনিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। গত ৩ জুলাই কাজের কথা বলে অভিযুক্ত তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তাকে কৌশলে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ১০ জুলাই সকালে সুযোগ বুঝে ওই নারী সেখান থেকে বের হয়ে আত্মরক্ষা করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী নারী বিশ্বনাথ থানায় নুর উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে সিলেটের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।