বিয়ানীবাজারে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের ভূমিকার প্রশংসা এবং জামায়াতসহ ইসলামপন্থীদের সমালোচনা করে বক্তৃতা দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বিয়ানীবাজারের তরুণ এক ছাত্রনেতা। তার নাম ইবাদুর রহমান। তিনি উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বাগন গ্রামের মৃত ইসমাঈল আলীর ছেলে। জাসদ ছাত্রলীগের কর্মী। তরুণ বিতার্কিক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ৩ টি মামলার ফেরারি আসামী।
সহপাঠি ও শিক্ষকদের কাছ থেকে জানাযায়, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল কলেজ প্রশাসন। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে বক্তব্য রাখেন ইবাদুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ও মেজর জিয়াউর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কিন্তু,মেজর জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। এ নিয়ে তাৎক্ষণিক আপত্তি জানান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
একই বক্তৃতায় তিনি জামায়াত এবং ইসলামী রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে হামলা চালিয়ে তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন শিবির ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তারা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। পরে অবশ্য,শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পুলিশের হাতে আটক হওয়া থেকে রক্ষা পায় ইবাদুর।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এ বক্তৃতার পর থেকে ইবাদুরের ওপর মামলার খড়্গ নেমে আসে। ২৮ মার্চ শিবির নেতা আহবাব হোসেন মুরাদ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করেন ‘ধর্ম অবমাননার’ মামলা। মামলার পর থেকে আবিদুল পলাতক। তারপরও রেহাই নেই। মামলার পরদিন ইবাদুরের বোনের বাসায় হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে,এই হামলার সাথেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত।
এ অবস্থায় ২৯ তারিখ রাতে পুলিশ ইবাদুর রহমানের বাগন গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালায়৷ সে অভিযানে তার বাসায় ‘বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও কিছু অবৈধ অস্ত্র’ পাওয়া গেছে বলে দাবী করে পুলিশ। এ অভিযোগেও ‘বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ’ আইনে ৩০ মার্চ আরেকটি মামলা করে পুলিশ।
ইবাদুর রহমানের ঘনিষ্টজনরা জানান, সে রাজনীতি সচেতন পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন মুড়িয়া ইউনিয়ন জাসদের সহ সভাপতি। মুড়িয়া হাওরের ‘মৎস ব্যবসা’র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি জামায়াত নেতাদের সাথে দীর্ঘ দিন থেকে আবিদুরের বিরোধ চলমান। ব্যবসা সংক্রান্ত সে বিষয়েও আবিদুরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা রয়েছে। কলেজে বক্তৃতাদানের দিন (২৬ শে মার্চ) উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস ছবুর বাদী হয়ে সে মামলাটি করেছেন।
মামলাগুলোর খড়্গ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তরুণ এ বিতার্কিক। এদিকে তরুণ বিতার্কিক, মুক্তিযুদ্ধ প্রেমী একজন ছাত্রনেতাকে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানী করায় ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
