২৪ জানুয়ারি বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল আগেই। সবই ঠিকঠাক। এমন সময় বাদ সাধে প্রকৃতি। ২৩ জানুয়ারি এলাকায় ব্যাপক তুষারপাত হয়। বর ও কনের বাড়ি দুই জায়গাতেই তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত বরফ জমে যায়। পালকিতে করে বর-কনেকে নিয়ে যাওয়ার রীতি থাকলেও তুষারপাতের কারণে পথঘাট এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল যে পালকিতে বর বা কনেকে বহন করা সম্ভব ছিল না।
কিন্তু বিয়ে তো করতেই হবে! তারুণ্যের উদ্যোমের কাছে তুষার কোন বাধা হতে পারে না। বরযাত্রী নিয়ে ৭ কিলোমিটার তুষার ভেঙ্গে কনের বাড়িতে হাজির বর ও বরযাত্রীরা। কনেও কম যান না। বিয়ের পর ৭ কিলোমিটার পাহাড়ি তুষারময় পথ হেঁটে শ্বশুর বাড়িতে হাজির হন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সারাজে। বিয়ের দিন তো অনেক আগেই পাকা হয়েছিল। ২৪ জানুয়ারি বিয়ে। কিন্তু ২৩ জানুয়ারি হিমাচল প্রদেশে প্রবল তুষারপাত হয়। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তি শুরু হয়। বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কনে বাড়ির লোকেরা অপেক্ষা করছিল বরের জন্য। রীতি অনুযায়ী পালকিতে করে বর-কনেকে আনা নেওয়া করতে হয়। কিন্তু পথঘাট এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল যে পালকিতে বর বা কনেকে বহন করা সম্ভব ছিল না। এই অবস্থায় নববধূর কথা ভেবে প্রবল তুষারপাতের মধ্যেই ৭ কিলোমিটার হেঁটে কনের বাড়িতে গেলেন বর গীতেশ ঠাকুর। একদম সামনে শুট-টাই পরা বর। তরুণের মাথায় পাগড়ি, গলায় বিশাল এক মালা। পাহাড় ঘেঁষা বরফে ঢাকা রাস্তা দিয়ে হেঁটে কনের বাড়িতে যান তিনি। ২৫ জানুয়ারি সকালে ওই বরফ ডিঙিয়েই বিয়ে করে ফেরেন তরুণ। ফেরার সময় অবশ্য সঙ্গে ছিলেন একগলা ঘোমটা দেওয়া নবপরিণীতা বধূ ঊষা ঠাকুর। বরের হাত ধরে বরফের উপর দিয়ে হেঁটে প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।
বরফের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাওয়া এই বিয়ে এখন গোটা এলাকাতেই স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।
