মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তাঁর ননদ চামেলীকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বড়লেখা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।
মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর মা রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন।
মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মুন্নির কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হতো।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মামলার এজাহারে নির্যাতনের অডিও-ভিডিও থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
এর আগে গত ২১ আগস্ট মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা মকবুল আলী প্রথমে বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ থাকার কথা বলা হয়েছে।
মুন্নির মৃত্যুর পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মামলা দায়েরের পর বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছিলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে চামেলীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে শুক্রবার রাতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকা থেকে পুলিশের একটি স্পেশাল টিম চামেলিকে আটক করেছে।