
প্রতীকী চিত্র
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় দুই কিশোরী বোনকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ভুক্তভোগীদের বাবা বড়লেখা থানায় প্রধান অভিযুক্ত মিথুন দাসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত মিথুন দাসের চাচা অরুণ চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত মিথুন দাস এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের উত্তর বড়ময়দান গ্রামে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সে সময় দুই বোন ঘরে একা ছিলেন। তাদের মা পাশের রাইস মিলে স্বামীকে টর্চলাইট দিতে গেলে এই সুযোগে প্রতিবেশী মিথুন দাস ঘরে প্রবেশ করে।
এসময় সে প্রথমে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধরার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরী নিজেকে রক্ষা করে চিৎকার দিতে দিতে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর অভিযুক্ত মিথুন দাস বড় বোনকে (১৭) জোরপূর্বক খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। চিৎকার বন্ধ করতে তার মুখ ও গলায় চাপ প্রয়োগ করা হয়, এতে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে আটক করেন। তবে কিছুক্ষণ পর মিথুন দাসের পরিবারের সদস্যরা দা ও লাঠিসোটা নিয়ে এসে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বাবা বাদী হয়ে মিথুন দাস, তার বাবা মাখন চন্দ্র দাস, ভাই টিপু চন্দ দাস, চাচা অরুণ চন্দ্র দাস এবং চাচাতো ভাই অরুপ দাসকে আসামি করে মামলা করেন। পরে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অরুণ চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান শনিবার রাত সাড়ে আটটায় জানান, মামলার পরপরই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ও বিচার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনের আওতায় আনা হবে সকল অভিযুক্তকে।