মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎকৃত সব স্বর্ণালংকার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)। গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী হুজুর সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে রোকেয়া বেগম বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন, স্বর্ণালংকার নেই। পরে ফোন করলে তাঁকে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত পাবেন।
এরপর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় ভুক্তভোগী দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। কিন্তু এবারও সেগুলো আর ফিরে পাননি।
দুই দফায় তাঁর কাছ থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে আত্মসাৎকৃত ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে ২ নভেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, প্রতারণার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারসহ আত্মসাৎকৃত সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
