বৃষ্টির কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা, ডুবছে সোনালী ফসল

কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের প্রায় ১২শত হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা তাদের ফসল বাঁচাতে প্রাশাসনের কাছে ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় কৃষকরা শেলু মেশিন বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করছেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ না হওয়ায় এবার কৃষকরা কেটে দিলেন ফসল রক্ষা বাঁধ।

শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকালে জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর অংশের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই বাঁধ কেটেদেন ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকরা। এসময় কয়েকশত কৃষক উপস্থিত থেকে ভেকু মেশিনের সাহায্যে বাঁধটি কেটে দেন তারা।

সড়েজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই গ্রামের পাশে কাড়াড়াই ক্লোজার ভেকু মেশিন লাগিয়ে কাটছেন কৃষকরা। এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৯ নাম্বার প্রকল্প ছিলো। তবে বাঁধের হাওর অংশে বেশি পানি থাকায় ও পানি নিষ্কাশনের কোন পথ না রাখায় হাওরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধাতা দেখা দিয়েছে। এতো মধ্যে কৃষকদের প্রায় ১২শত হেক্টর সোনালী ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাঁধ কাটতে এলাকার কয়েকশত কৃষকরা উপস্থিত হয়ে বাঁধটি কেটে দিয়েছেন।

অপরদিকে গত বুধবার (০১ এপ্রিল) পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ১৬ নম্বার প্রকল্পের পুটিয়া নদীর ক্লোজারটিও কেটেছেন কৃষকরা। এই বাঁধটি কেটে নদীর পানি কমার ফলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি আসায় উপরের ১৯ নাম্বার প্রকল্প কাড়াড়াই ক্লোজার কেটে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন।

এলাকার কৃষক ছমির উদ্দিন ছালেহ জানান, আমাদের হাজার হাজার হেক্টর বোর ফসল চোখের সামনে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের সাথে অনেকবার যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের কোন সমাধান দিতে পারেননি। এখন আমাদের উদ্যোগে বাঁধ গুলো কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছি। পরে আবার আমরাই বাঁধ গুলো বেধে দেব। এ জন্য আগে থেকেই বাঁধের পাশে আমরা মাটি ও বস্তা স্টক করে রেখেছি।

এ ব্যাপারে পর্বূ পাগলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছাদেক মিয়া জানান, আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাদিকবার জানিয়েছে বাঁধ গুলো কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোন প্রতিকার আমরা পাইনি। তবে তিনি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সড়েজমিন দেখে গেছেন। আমাদেরকে পরে জানানো হয়েছে আমাদের দায়িত্বে বাঁধ গুলো কেটে পানি নিষ্কাশন করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবার বেধে দিতে। তাই আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে আমাদের কৃষকদের অর্থায়নে বাঁধ গুলো কেটে দিয়েছি।

১৬ নম্বর প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ছালিক মিয়া জানান, আমি এলাকার কৃষক পারিবারের সন্তান। আমারও অনেক জমি হাওরে আছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। পানি নিষ্কাশন শেষ হলে এলাকার কৃষকরা তাদের অর্থ ব্যয় করেই আবার বাঁধ গুলো বেধে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। হাওরের কৃষকরা এই সময়য়ে উভয় সংকটে আছেন। উপরের জমির মালিকগণ বাঁধ কাটার ফলে বেশি আতঙ্কে আছেন।

পূর্ব পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, আমাদের হাওরের কৃষদের কষ্টের কথা আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। কৃষকরাও উভয় সংকটে আছেন। এলাকার কৃষকদের নিজ দায়িত্বে বাঁধ গুলো কেটে পানি নিষ্কাশন করছেন। এই বাঁধ গুলো আবার আমাদের সবার সহযোগিতায় বাঁধা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, কৃষকরা বাঁধ গুলো কাটার আগে আমাদেরকে অবগত করেছেন। আমরা প্রতিটি বাঁধের সার্ভে করে রেখেছি। বাঁধ গুলো কৃষকরা তাদের নিজ উদ্যোগে কেটে দিচ্ছেন। আবার নিজ উদ্যোগেই বেধে দিবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা কোন অনুমোতি বা পারমিশন দেইনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, এলাকার কৃষকরা আমাকে অবগত করেছেন। আমি সড়েজমিনে জায়গা গুলো ঘুরে দেখে এসেছি। তারা আমাকে আশ্বস্থ করেছেন আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাঁধ গুলো আবার বেধে দিবেন। তিনি জানান, হাওরের বাঁধ গুলো বাঁধার আগে সঠিক পরিকল্পনা ও ডিজাইন করা দরকার ছিলো। বাঁধের বাহিরের পানি যে ভাবে আটকাতে হবে সেই ভাবে ভেতরের পানি বাহির করারও পথ রাখতে হবে। তাহলে এই সমস্যার সম্মূখিন হতে হবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন