বব রসের এক ছবির দাম ১০ লাখ ডলার

টেলিভিশনের পর্দায় একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন মার্কিন চিত্রশিল্পী বব রস।

টেলিভিশনের পর্দায় একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন মার্কিন চিত্রশিল্পী বব রস। মৃদু গলায় কথা বলতে বলতে তুলির আঁচড়ে মুহূর্তেই এঁকে ফেলতেন ছবি। তার আঁকা সে রকম এক ছবি সম্প্রতি বিক্রি হয়েছে ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।

বব রসের ‘কেবিন অ্যাট সানসেট’ ছবিটি দাতব্য তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে অনলাইন নিলামে তোলা হয়। ১৯৮৭ সালে আঁকা এ ছবির জন্য প্রায় ৩০টি দর উঠেছিল। এর মধ্য দিয়ে বব রসের আঁকা একটি ছবির মূল্য ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে রেকর্ড তৈরি হয়েছে। নিলামটি আয়োজন করে মার্কিন টেলিভিশন শো লাস্ট উইক টুনাইট উইথ জন অলিভার। পুরো উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ব্রডকাস্টিং স্টেশনগুলোর জন্য তহবিল জোগাড় করা। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাজেট কমে যাওয়ায় এসব স্টেশন আর্থিক সংকটে পড়ে।

ছবিটিতে দেখা যায় উজ্জ্বল কমলা-বেগুনি আকাশের নিচে ছোট এক কাঠের কেবিন আর পাইনগাছ ঘেরা শান্ত বিকালের দৃশ্য। বব রসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দ্য জয় অব পেইন্টিংয়ের দশম মৌসুমের দ্বিতীয় পর্বে মাত্র ২৬ মিনিটে ছবিটি তিনি এঁকেছিলেন।

শিল্প সংগ্রাহকদের মধ্যে বব রসের ছবি নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণও রয়েছে। মাত্র কিছুদিন আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিলামঘর বনহামস তার তিনটি ছবি বিক্রি করে। মোট দাম ওঠে ৬ লাখ ৬২ হাজার ডলারের বেশি। সেগুলোও দেয়া হয় আমেরিকান পাবলিক টেলিভিশনের (এপিটি) সহায়তায়।

সেই নিলামে রসের উইন্টারস পিস (১৯৯৩) ছবিটি বিক্রি হয় ৩ লাখ ১৮ হাজার ডলারে। তখনই এটি ছিল তার বিক্রি হওয়া ছবির সর্বোচ্চ নিলামমূল্য। বাকি দুটি ছবি হোম ইন দ্য ভ্যালি (১৯৯৩) ও ক্লিফসাইড (১৯৯০) লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘কেবিন অ্যাট সানসেট’ এসব ছবির মূল্যকে পেছনে ফেলে মিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়ে ফেলে। ফলে রসের জনপ্রিয়তা যে কতটা দ্রুত বাড়ছে, তা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পুরো উদ্যোগের পেছনে ছিলেন বব রস ইনক ডটের প্রেসিডেন্ট জোয়ান কোয়ালস্কি। রসের স্টুডিওতে রাখা ৩০টি ছবি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত তিনিই নেন। এর মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বাজেট কমে যাওয়ায় অনেক পাবলিক রেডিও ও টিভি স্টেশনের অর্থ সংকট।

নিলাম থেকে পাওয়া টাকা বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার সম্প্রচার কেন্দ্রগুলোর জন্য সহায়ক হবে। এপিটি জানিয়েছে, এ অর্থ পেলে তারা শিশুদের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার চালিয়ে যেতে পারবে। স্থানীয় সাংবাদিকতার কাজও ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন পরিষেবা চালু রাখা যাবে।

রস জীবদ্দশায় হাজারের বেশি ছবি এঁকেছিলেন। তার বেশির ভাগই এখন বব রস ইনক ডটের আর্কাইভে আছে। কিছু ছবি রাখা আছে পিবিএস বা পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের আঞ্চলিক দপ্তরে। তাই ব্যক্তি পর্যায়ে সংগ্রহের জন্য রসের খুব কম ছবি পাওয়া যায়।

এ স্বল্পতাই সংগ্রাহকদের আগ্রহ আরো বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ইউটিউব, নেটফ্লিক্স ও সোশ্যাল মিডিয়ায় রসের অনুষ্ঠান নতুন করে জনপ্রিয় হয়েছে। মানুষ আবার তার ছবি ও কাজ দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। তাছাড়া রসের যেসব ছবি পাওয়া যায়, তার প্রায় সবই দাতব্য কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব কারণে তার ছবি বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

বনহ্যামস অবশিষ্ট ২৭টি ছবিও ২০২৬ সাল পর্যন্ত বোস্টন, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে নিলামে তুলবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নিলামে তার ছবি হয়তো আবারো মিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে। তবে বাজারমূল্যের মাধ্যমে রসের জীবনের সফলতা বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ তার শান্ত ও ধীরস্থির তুলির আঁচড় এখনো দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। অনেকের জীবনে তিনি এখনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন