- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সমন্বিত শ্রমিকবান্ধব নীতিমালার দাবিতে সিলেটে মিছিল

ব্যাটারি চালিত যানবাহনের যানবাহনের নীতিমালা, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্সের দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট এর উদ্যোগে মিছিল-সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ইলেকট্রিক সাপ্লাইস্হ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত শেষে শত শত শ্রমিকের মিছিল বের হয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিলেট জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। স্মারকলিপি প্রদান করেন রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল, সংগঠনের উপদেষ্টা আবু জাফর,সহ সভাপতি আতাউর রহমান,সহ সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমদ প্রমূখ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা আবু জাফর, জেলা সভাপতি শহিদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমদ,সহ সভাপতি শেখ রফিক, আতাউর রহমান, ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আলী,মাহিন আহমেদ, সিপন আহমদ,দুলাল মিয়া, হোসেন আহমদ, আব্দুল্লাহ পারভেজ, আনোয়ার হোসেন কুটি, সমছু মিয়া,আনিছ আহমদ, শফিকুল ইসলাম, আশফাক আহমদ, আল আমিন, অজয় রায, সজিব মিয়া প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, যানজট নিরসনে, যাত্রী-চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে সারাদেশে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। দীর্ঘ এই ১৩ বছরে ৬০ লক্ষ যানবাহনের সাথে যুক্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবিকা রক্ষায় সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব বারবার পুলিশের হামলা-মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছে। কিন্ত সবসময় একটি মহল বা গোষ্ঠী ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক এর বিরুদ্ধে যানজট, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ চুরিসহ নানা বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। সংগ্রাম পরিষদ ৬০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকাকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি চেয়েছে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিরসন, চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সংগ্রাম পরিষদের দীর্ঘ লড়াই একটি আধুনিক, পরিবেশ-যাত্রী বান্ধব, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহণ ব্যবস্থার পক্ষে। যে কারণে বিগত ১৩ বছর ধরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি নীতিমালার জন্য আমরা আন্দোলন করে আসছি। সংগ্রাম পরিষদের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অবশেষে বর্তমান সরকার ব্যাটারি চালিত যানবাহনের নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১০ দফা দাবি পড়ে শোনান হয় । ১০ দফা দাবি হলো:
১। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিরসন, গাড়ি, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, স্থানীয় সরকার ও বি আর টি এর সমন্বয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন করে তাদের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স, রুট পারমিট প্রদান করতে হবে।

২। নীতিমালার নামে ব্যাটারিচালিত যানবাহন প্রস্তুতকারক বা বিপণনকারী হিসেবে কোন কোম্পানি বা কোন সিন্ডিকেটকে প্রাধান্য দেয়া যাবেনা। স্থানীয় উৎপাদককে (বর্তমান ব্যাটারি রিকশা-ইজিবাইক উৎপাদক) সরকারি অনুমোদিত ই-রিকশার ডিজাইন ও উৎপাদনের অনুমোদন দিয়ে স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্পকে রক্ষা ও বিকশিত করতে হবে।

৩। কারিগরি ত্রুটি সংশোধন করে ডিজাইন অনুযায়ি বর্তমানে চালিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন প্রতিস্থাপন করার জন্য সরকারি ভর্তুকি ও পর্যাপ্ত সময় (কমপক্ষে ২ বছর) দিতে হবে। চালক-মেকানিক-মালিকসহ ৬০ লাখ ও তাদের উপর নির্ভরশীল ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ বা নিষিদ্ধ করার যে কোন আয়োজন বন্ধ করতে হবে।

৪। দেশের ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে পার্কিং ও চার্জিং (সোলার/ব্যাটারি) স্টেশন স্থাপন কর। পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌরবিদ্যুৎ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি প্রদান সহজলভ্য করতে হবে।

৫। লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার করতে হবে। (সৌর বিদ্যুৎ অনেক ব্যয়বহুল ও আলোক স্বল্পতার সমস্যা হয়)। ফলে রিকশা চালক/শ্রমিকদের উপর এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত চাপানো যাবে না।

৬। মহাসড়কে স্বল্পগতির/লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন/সার্ভিস রোড নির্মাণ করতে হবে।

৭‌। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়, বিট বানিজ্য, ব্যাটারি ও রিকশা ছিনতাই-চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন ও নারী চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৮। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকের চালক (প্রায় ৪৬ জন) সহ নিহত আহত সকল শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুর্নবাসনে কার্যকর ব্যবস্থা নাও।

৯। সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবতী, কেন্দ্রীয় সাবেক সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন, সিলেট মহানগর উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু জাফর, সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি পাল, জেলা সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা আছহবায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আল কাদেরী জয়সহ সারা দেশে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দের উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশ হয়রানি বন্ধ করা।

১০। সকল শ্রমিকদের জন্য আর্মি রেটে রেশন, পেনশন ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।

সমাবেশে বক্তারা গাইবান্ধায় মিছিলে হামলা ও সংগ্রাম পরিষদ নেতা গোলাম রাব্বানীর গোলাম রব্বানী আহত হওয়ার তীব্র নিন্দা ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন