চার বছরের শিশুও নিরাপদ নয়: সিলেটে ফাহিমার ঘাতক জাকির গ্রেফতার

সিলেটে চার বছরের নিষ্পাপ শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের ছায়া। শিশু নির্যাতন ও হত্যার এই নির্মম ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা বলছেন—“এখন কি শিশুদেরও নিরাপত্তা নেই?” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে তাকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জাকির নিহত ফাহিমার প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে তার চাচা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন শিশুটিকে বাড়িতে ডেকে নেয় জাকির। পরে তাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না। এরপর নিজের অপরাধ গোপন করতে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে শিশুটির মরদেহ পেঁচিয়ে একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের ডোবায় ফেলে দেয় সে।

শুক্রবার ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফাহিমা স্থানীয় দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ভোরে কাজে বের হওয়া অসহায় এই বাবার ঘর এখন শুধুই আহাজারিতে ভারী। প্রতিবেশীরা জানান, ছোট্ট ফাহিমা ছিলো খুবই চঞ্চল ও হাসিখুশি স্বভাবের। তাকে হারিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের মাতম চলছে।

গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এসময় তারা ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। উত্তেজিত জনতা পরে জাকিরের বাড়িতেও হামলা চালায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “যে মানুষ চার বছরের একটি শিশুর সাথেও এমন পাশবিক আচরণ করতে পারে, তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।” অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিবার ও সমাজকে এখন আরও সতর্ক হতে হবে।

জিজ্ঞাসাবাদে জাকির সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছে, ঘটনার সময় সে মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে গেলে সে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব জানান, অভিযুক্তকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর ঘটনা। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, পরিবার ও সমাজকেও আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন