দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলন, একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার এবং ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রদলের ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জানা গেছে।
ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় মো: মাহফুজুর রহমান দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কারণেই ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৩ সালে ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এসব দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠান সাথে পালন করায় ছাত্ররাজনীতিতে তার অবস্থান আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক উত্থান মূলত সিলেট মহানগরকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা যায়। সিলেটে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি ‘মাঠের কর্মী’ হিসেবে পরিচিত।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন সময়ে মো: মাহফুজুর রহমান ও তার পরিবারকে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ তাকে ‘ত্যাগী ও নির্যাতিত ছাত্রনেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন বাড়ছে। বিশেষ করে তৃণসমূল থেকে উঠে আসা নেতাদের ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ কারণে মাহফুজুর রহমানের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। আমার কাছে দলীয় সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই আমি মেনে নেব।”
তবে ছাত্রদলের সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে একাধিক সাবেক ছাত্রনেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবেন, তা নির্ধারণ করবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।
