রাজনগর উপজেলায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার তিন হামলাকারীকে মামলা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উল্টো মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরবাগ ইউনিয়নের হলদিগুল গ্রামে প্রবাসী এবং রাজনগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম-এর বাড়িতে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পূর্বশত্রুতা ও গুজবের জেরে তাওহিদুল ইসলামকে খুঁজতে এসে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তার চাচা এবং সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোঃ জিতু মিয়া উপস্থিত হলে তার ওপরও হামলার চেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার সময় গ্রামবাসী এগিয়ে এসে তিন হামলাকারীকে দেশীয় অস্ত্র এবং একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। আটককৃত সন্ত্রাসীদের একজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে মুন্সিবাজার ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদকে।
একই রাতে অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ তিন হামলাকারীকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের দাবি, পুলিশ কোনো মামলা গ্রহণ করেনি এবং পরদিন বুধবার (২০ আগস্ট) তাদের মোটরসাইকেলসহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলা না করার জন্য পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন খান বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
