বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় সিলেট ছাত্রলীগের প্রভাবশালী সাবেক নেতা মো: মাখন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের এই নির্দেশনার পর গোলাপগঞ্জ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুনামপুর ছাত্রলীগ এবং এমসি কলেজ ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মাখন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে পলাতক রয়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে গোলাপগঞ্জ থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল দক্ষিণ সুনামপুর গ্রামে আসামির পৈত্রিক বাসভবনে একটি সমন্বিত অভিযান (Raid) পরিচালনা করে। তল্লাশি শেষে পুলিশ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন যে, আসামি বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তিনি গ্রেফতার এড়াতে দেশ ত্যাগ করেছেন বা আত্মগোপনে আছেন।
এদিকে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় ক্যাডাররা, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন মাখন উদ্দিনের পুরনো মামলার আসামি নাজিম উদ্দিন (যার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে মাখন উদ্দিনকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করার মামলা রয়েছে), তারা মাখনের পরিবারের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা মাখনের পরিবারকে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেছে, পলাতক এই নেতা যদি বাংলাদেশে পা রাখে, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, “আদালতের ওয়ারেন্ট তামিল করতে আমরা আইনগতভাবে বাধ্য। আসামির সম্ভাব্য সকল লুকিয়ে থাকার জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” অন্যদিকে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুলিশের অনবরত নৈশকালীন অভিযান এবং ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের লাগাতার হুমকির কারণে তারা চরম মানসিক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
