দারিদ্র্যের কাছে হার, নবজাতকের দাবি ছাড়লেন বাবা-মা

একদিকে সীমাহীন দারিদ্র্য, অন্যদিকে জন্মগত প্রতিবন্ধকতা—এই দুই বাস্তবতার নির্মম চাপে নিজের নবজাতক কন্যাশিশুকেও কাছে রাখতে পারলেন না এক দম্পতি। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুর এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতকের বাবা-মায়ের পরিচয় মিললেও, তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেয়েটির ওপর তারা কোনো দাবি বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন না।

গত ৬ জুলাই ভোরে উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় জেলা পরিষদের সড়কের পাশ থেকে কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি সেফ হোমে রাখা হয় নবজাতকটিকে। এ সময় শিশুটির দায়িত্ব নিতে একাধিক ব্যক্তি আবেদনও করেন।

পরবর্তীতে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে অস্থায়ীভাবে উত্তর শাহপুর গ্রামের সফর আলীর ছেলে ও নিঃসন্তান জাবেদ আলীর জিম্মায় সেফ হোম হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এটি স্থায়ী হস্তান্তর নয়; প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শিশুটির বাবা বাসির ও মা শিরিনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তাদের সংসারে আগে থেকেই দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকটিও জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী বলে জানান তারা।

স্বল্প বেতনে একটি মেটাডোর কোম্পানিতে চাকরি করে কোনোমতে সংসার চালানো বাসির বলেন, নবজাতকে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন