গত দেড় যুগের বেশি সময় ধরে মোঃ রইছ মিয়া পা সোজা করে ঘুমাতে পারেন না। মৃত্যু ছাড়া পা সোজা করে ঘুমাতে পারবো না মনে হয়। ত্রীপাল, বাঁশের ছাঁটাইয়ের ছাইনি আরে বেড়ার ছোট একটি খুপরি ঘরে বসবাস করেন এক প্রতিবেশীর দেয়া একটু জায়গায়।
সেখানে নেই আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা। রাতে সবার ঘরে যখন বিদ্যুৎতের আলো জ্বলে তখন রইছ মিয়ায় ঘরে জ্বলে সেই আশির দশকের কেরসিন দিয়ে আলো জ্বালানো কুপি বাতি। সে আলোও আবার জ্বলে না টাকার অভাবে কেরসিন আনতে না পারার কারনে।
এমনি অবস্থায় রয়েছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বাসিন্দা মোঃ রইছ মিয়া (৬৩)। তিনি উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামের(পুরাত শাসপর) এলাকায় বসবাস করছেন।
সরজমিন গিয়ে কথা হয় রইছ মিয়ার সাথে তিনি জানান, নিজের কোনো সম্পদ নেই,নেই জমি জমা ও পরিবার পরিজন। তিনি জানান, রমজান মাসে রোজা রাখেন তিনি, কিন্তু কোনো দিন খেয়ে আবার না খেয়েই রোজা রেখেছেন। আর ইফতারী করেছেন শুধু মুড়ি আর পানি খেয়ে। আর যদি প্রতিবেশীরা খাবার ও ইফতারী দেয় তাহলে খেতে পারেন। জীনবের শেষ বেলায় এসে হিসাব মেলাতে পারছেন না ১৯৬৩ সালে ২১ এপ্রিল মাসে জন্ম নেয়া সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বাসিন্দা মোঃ রইছ মিয়া (৬৩)। বর্তমানে তিনি ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামের(পুরাত শাসপর) এলাকায় বসবাস করছেন। জীবন যেন চলে না তারপরও বেঁচে থাকা তাগিদে নিজের রান্না নিজেই করেন। রান্না বলতে আলু বাজি,আলু ভর্তা ও ভাত রান্না করা। ভাল খাবার জুটে না তার কপালে। তাও করতে পারেন যদি প্রতিবেশীরা দেয় আর না হলে ভিক্ষা করে যদি টাকা পায় তার উপর নির্ভর করে।
তিনি জানান, রৌদ বৃষ্টিতে যেন তার মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। ঘরের উপরে ত্রীপাল দিয়ে ছাউনি দিয়ে প্রচন্ড শীতের মধ্যে কোনো রখমে দিন পার করলেও বৃষ্টির দিনে বেহাল অবস্থা। বৃষ্টির পানি ঘরে পরে কষ্টে দিন পার করছেন। ভিক্ষা করে কোনো রখমে জীবন চালাচ্ছেন কিন্তু বয়সের ভাড়ে জীবন যেন আর চলতে চায় না, শরীরে বাসা বেধেছে নানা রোগ। লাঠিতে ভর করে কোনো রখমে চলেন।
রইছ মিয়া জানান, তিন বোনের এক ভাই ছিলেন তিনি। যুবক বয়সে পরিশ্রম করতে পারতেন। সেই সময়ে করেছিলেন বিয়ে, ছিলো স্ত্রী ও একটি মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার। সেই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন গরীব পরিবারে সে কারনে মেয়েও খোঁজ খবর নেয়ায় সুযোগ নেই। আজ স্ত্রী ও নেই তিনি বড়ই একা। প্রতিবেশীদের সহযোগী আর ভিক্ষা করে চলছে তার জীবন সংগ্রাম। তিনি চান সরকারী ও সমাজের ভিত্তবানদের সহায়তা যেন জীবনের শেষ সময় টুকু চলতে পারেন একটু গুছিয়ে। আর না হলে আল্লাহ তার এক মাত্র ভরসা।
রইছ মিয়ার ঘরের পাশের বাসিন্দাগন জানিয়েছেন, তারাও সময় আর সুযোগ পেলে তাকে সহযোগিতা করেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা সহ কোনো কিছুই করতে পারছে না। এই বয়সে নিজে নিজে রান্না করেই খেতে হয় ভর বেশী অসহায় তিনি। সরকার ও সমাজের ভিত্তবানগন তাকে সহযোগিতা করলে হয়ত জীবনের শেষ হয় সময়ে একটিু জীবন জীবিকা সুখের হত।
