সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে। এতে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ নম্বর পিআইসি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন ১৮৮১ মিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে একাধিক জায়গায় ধস ও বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগে বর্ষা মৌসুমে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ছাইয়া কিত্তি অংশে মহাসিং নদী ও বাঁধের পাশ থেকে ভিট বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। এর ফলে ছাইয়া কিত্তা বাঁধের দুই পাশে ২০২৩ অর্থ বছরে ২৭ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং বাঁধ নির্মাণ কালে বাঁধে ধস ও ফাটল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আবারও ২০২৪ অর্থ বছরে একই অংশে বাঁধে ফাটল ও ধস সৃষ্টি হয়। উভয় বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করেন। সরেজমিনে গতকাল শনিবার(৩১ জানুয়ারী০ দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আবারও ছাইয়া কিত্তা অংশে বাঁধে ধস ও একাধিক জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি কমে যাওয়ায় বাঁধের মহাসিং নদীর অংশে মাটি ধসে পড়েছে এবং একাধিক জায়গায় ফাসল সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, বাঁধ নির্মাণের আগে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। নদীর গভীর গর্ত ও অপরিকল্পিত ভাবে পানি নিষ্কাশনের কারণে প্রতি বছরই এই বাঁধে নতুন করে ধস দেখা দেয়। এখন বাঁধের সুরক্ষার জন্য গাছের ভল্লি ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করা জরুরি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
১৮ নম্বর পিআইসি কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুন্দর আলী বলেন, আমাদের অংশের বাঁধের অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শেষ পর্যায়ে এসে ছাইয়া কিত্তার অংশে একাধিক ফাটল ও বাঁধে ধসের সৃষ্টি হইয়ছে। এই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আমাদের প্রকল্পের মধ্যে ছিল না। কিন্তু ধসের কারণে এখন নতুন করে কাজ করতে হবে।
১৮ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, আমাদের ১৮ নম্বর পিআইসির অধিনে ১৮৪১ মিটার কাজ কাজে কলেমে থাকলেও আমাদেরকে অতিরিক্ত আর ২৪১ মিটার কাজ অতিরিক্ত ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসিং নদীর পানি কমে যাওয়ার নদীর পাড়েরর অংশে গভীর গর্ত হওয়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের ফসল হুমকির মুখে পড়বে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যা জানালেও স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি।
হাওর পাড়ের কৃষকরা বলছেন, ধসের কারণে যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো দেখার হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলে বোরো ফসলই প্রধান আয়ের উৎস, যা সঠিক ভাবে রক্ষা করা না গেলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা দ্রুত বাঁধের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরিকল্পিত ভাবে হাওরের পানি সরানোর ফলে নদীর তীরে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব দুর্বল করে দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ছাইয়া কিত্তি অংশে ফাটল ও ধস হওয়া বাঁধের অংশ পরিদর্শন করেছি। আমার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছে। শ্রীঘিই সার্ভে টিমের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
