জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবীন- প্রবীণ পাঁচ নেতা। যারা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে দলটির সাবেক দুই শীর্ষ নেতার সন্তানদের নিয়ে। তবে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকেই এখনো ডেপুটি স্পিকার পদে মনোনীত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।
সোমবার (২ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কে হচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার তা নিয়ে আলোচনায় শুরু হয়। ডেপুটি স্পিকার পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সন্তান নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি পাবনা-১ আসন থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এবার বিজয় লাভ করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। একই সঙ্গে এই পদের জন্য দৌড়ে আছেন জামায়াতের সাবেক আরেক শীর্ষ নেতা প্রয়াত মীর কাসেম আলির ছেলে আহমদ বিন কাসেম আরমান। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিগত দিনের তালিকা বিশ্লেষণ করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে সাধারণ আইনজ্ঞ নিয়োগ দেবার রীতি থাকায় তাদের দুজনের সম্ভাবনা আরো বেড়েছে বলে জানান দলটির একটি সূত্র। কারণ তারা দুজনই ব্যারিস্টার এবং আইনপেশায় যুক্ত রয়েছেন। তবে তুলনামূলক কম বয়সী হওয়ায় ডেপুটি স্পিকার পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জামায়াত তাদের বিবেচনা করবে কিনা সেই প্রশ্নও তুলছেন এই পক্ষ। দলের এই অংশটি ডেপুটি স্পিকার পদে প্রবীণ নেতাদের কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে।
রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ডেপুটি স্পিকার করা হতে পারে বলে জানান জামায়াতের একটি সূত্র। মুজিবুর রহমান দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা এবং বর্তমানে জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একাধিকবার দলের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বাইরে দলটির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন মুজিবুর রহমান।
মুজিবুর রহমানের বাইরে দলের আরেক শীর্ষ নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান রয়েছেন ডেপুটি স্পিকার পদে মনোনীত হবার আলোচনায়। বর্তমানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করা রফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একসময় ছাত্রশিবিরের এই কেন্দ্রীয় সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে জামায়াতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এই চারজন সংসদ সদস্যের বাইরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন রয়েছেন ডেপুটি স্পিকার হবার হটলিস্টে। দলের অন্যতম প্রবীণ এই নেতা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে (কারওয়ানবজার-তেজগাঁও) বিজয়ী হওয়ায় তাকে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে ভাবা হতে পারে বলে ধারণা জামায়াতের একটি অংশের।
আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য নেই জামায়াতের:
ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াতের যেসকল নেতাকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে সবই অনানুষ্ঠানিক বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিশেষ করে সরকারি দল বিএনপি জুলাই সনদের বিষয়ে স্পষ্ট কী অবস্থান নেয় সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াত। রোববার (১ মার্চ) দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন নেতা।
তারা জানান, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার্থে জুলাই সনদে ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়াসহ আরো বেশ কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখন জামায়াত দেখতে চায় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি কতটুকু আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। গুটিকয়েক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলে জুলাই সনদের বেশিরভাগ বিষয় এড়িয়ে গেলে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে জামায়াত। রোববারের বৈঠকে এমন আলোচনাও হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ওই তিন নেতা।
এদিকে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ থেকে সময় সংবাদকে জানানো হয়, ডেপুটি স্পিকার ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে ১১ দলের সংসদীয় টিমের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অর্থাৎ জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের যেসকল প্রার্থী এবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী মনোনীত করা হবে।
এ ব্যাপারে জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার পদে কারো বিষয়ে এখনো কিছু ভাবেনি জামায়াত। সংসদীয় টিমের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’।
সংসদীয় টিমের বৈঠকটি কবে নাগাদ হতে পারে সে বিষয়ে অবশ্য পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি এই জামায়াত নেতা।
